গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সহকারী অধ্যাপক, ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপার রয়েছেন। লক্ষ্মীপুরে গতকাল সকালে শ্রমিকবাহী পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে চার জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন নয় জন। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামু জোয়ারিয়ানালার নতুন মোরাপাড়ায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রাইভেটকার-বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর—
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, পৌর শহরের মুক্তিগঞ্জ এলাকায় ঐ দুর্ঘটনা ঘটনায় নিহতরা হলেন রফিক, মফিজ, খোরশেদ ও আব্দুর নুর। এরা সদর উপজেলার আবিরনগর এলাকার বাসিন্দা। আহতরা হলেন সৈয়দ আহম্মদ, আবুল হোসেন, ইয়াছিন, রবিউল, নজির, বাবুল ও আকবর। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। ওসি এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, ড্রাইভার লিটন পলাতক।
রামু (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন মাসুদ কিবরিয়া, জানে আলম ও জামাল উদ্দিন। আহত অপর এক জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাবনা প্রতিনিধি ও আটঘরিয়া সংবাদদাতা জানান, পাবনায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দেবোত্তর ডিগ্রি কলেজের কম্পিউটার অপারেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফেরদৌস সেলিম বাবলু (৪৮) নিহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে টেবুনিয়া-চাটমোহর মহাসড়কের রামচন্দ্রপুরের ঢাল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছার ভজেন্দ্রপুর গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক জন নারী চালক বেপরোয়াভাবে প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন। তাদের ধারণা চালক নেশাগ্রস্ত ছিলেন। ওসি নছিম আহমেদ জানান, চালক পালিয়ে গেছে।
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ররোয়ায় আলু ভর্তি ট্রাক ও কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাক ড্রাইভার ছানোয়ার হোসেন (৩৫)ও হেলপার পিন্টু (৩৮) নিহত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদের বাড়ি শাজাহানপুরে মালিটালা মাদলা গ্রামে। শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা মো. রতন হোসেন জানান, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদাতা জানান, লোহাগড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইশা (৩৭) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে লোহাগড়া-নহাটা সড়কের ব্রাহ্মণডাঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইশা যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার হাগড়া গ্রামের আজগর হোসেনের ছেলে। নলদী ফাঁড়ির এএসআই বদিয়ার রহমান জানান, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, তালায় লরি চাপায় গুরুতর আহত স্কুলছাত্র শাওন হোসেন খুলনা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। সে উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের শফিকুল সরদারের ছেলে এবং হরিহরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। গতকাল এ দুর্ঘটনা ঘটে। তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল বলেছেন, চালক পালিয়ে গেছে।
