মাদ্রাসা শিক্ষকের ওয়াল কেবিনেটে শিশুর লাশ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৩

গাজীপুরের কালীগঞ্জে আহনাফ হোসেন আদিল নামের তিন বছরের এক শিশুকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। গত বুধবার রাতে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার এক শিক্ষকের কক্ষের ওয়াল কেবিনেটের ড্রয়ার থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের মোয়াজ্জিনকে আটক করা হয়েছে।

নিহত আদিল ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার দশালিয়া গ্রামের মুফতি জুবায়ের আহম্মেদ শাহিনের একমাত্র ছেলে। আদিলের বাবা কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের মরাশ বাগে জান্নাত আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল। আটককৃতরা হলেন মো. জুনায়েদ আহমেদ (৩০) হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে ও মো. খাইরুল ইসলাম (২২) একই এলাকার জফু মিয়ার ছেলে। জুনায়েদ মরাশ বাগে জান্নাত আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক। অন্যদিকে খাইরুল ছিলেন মাদ্রাসার মসজিদের মোয়াজ্জিন।

নিহতের বাবা বলেন, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মোয়াজ্জিন মো. খাইরুল ইসলামের একটি মোবাইল ফোন চুরি যায়। পরে জানা যায় ঐ মোবাইল মাদ্রাসারই শিক্ষক মো. জুনায়েদ আহমেদ চুরি করেছেন। বিষয়টা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং চড়থাপ্পড় দেই। এ ঘটনার একদিন পর বুধবার বিকালে আমার ছেলে মাদ্রাসা মাঠে খেলতে যাওয়ার পর আর তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। কিন্তু শিক্ষক জুনায়েদ আহমেদ তার কক্ষের চাবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় জোরপূর্বক চাবি আদায় করে কক্ষে প্রবেশ করা হয়। এ সময় তার কক্ষের ওয়াল কেবিনেটের একটি ড্রয়ার থেকে আদিলের লাশ উদ্ধার করা হয়। উপস্থিত সকলের সামনে জুনায়েদ এবং খাইরুল খুনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক জানান, ঐ ঘটনায় দুই জনকে আসামি করে নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। ঐ দুই জন থানায় আটক আছে। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা হবে।