প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুলটিতে ভুবন ভরা আলো

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০৯

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি স্কুল নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু আধুনিকতায় স্কুলটি ছাড়িয়ে গেছে শহুরে নামীদামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও। লেখাপড়া, খেলাধুলা থেকে শুরু করে গান-বাজনা ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও জুড়ি মেলা দায় এই স্কুলের।

 

সরেজমিনে স্কুলটি পরিদর্শনে দেখা যায়, স্কুলের পুরো দেয়াল বহন করছে বাঙালির অধিকার ও স্বাধীকার আন্দোলনের কথা। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের চিত্র ধারণ করছে নীরবে। স্কুলে আছে স্বাস্থ্য কর্নার থেকে শুরু করে সততা স্টোরও। সব মিলিয়ে প্রাণ জুড়িয়ে যাওয়ার মতো শিক্ষা ব্যবস্থায় চালু করতে সক্ষম হয়েছেন এখানকার শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা লোকজন।

 

গ্রামের এই স্কুলটি আগাগোড়াই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেও ভালো। উপজেলাতে নিয়মিত প্রথম হওয়ার পাশাপাশি জেলাতেও প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে দুএকবার।

বিদ্যালয়কে মূলত এভাবে গড়ে তোলার কারিগর বর্তমান প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে যোগ দেয়ার পরেই নিজের ঘরের মতো করে সাজান স্কুলটি। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের করে তোলেন নিজের সন্তান। এরপরই শুরু হয় বদলে যাওয়ার গল্প। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সাজেদা খাতুন বলেন, আমি শুধু পাঠ্যপুস্তুক নয়, শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী পাঠদান করতে চেয়েছি। আর সে কারণেই একে একে প্রতিষ্ঠা করি বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, আনন্দ পাঠাগার, সততা স্টোর, মহানুভবতার দেয়াল ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা। এখানে শিক্ষার্থীরা মনের আনন্দে শেখে।

 

স্কুলটির ভূয়সী প্রশংসা করলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, একটি বিদ্যালয়ে শেখার যতগুলো অনুসঙ্গ দরকার তার সবই আছে এই বিদ্যালয়ে। আর সে কারণেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ার পরও স্কুলটি আলোকিত হয়েছে নিজ আলোয়।

 

ইত্তেফাক/এএম