g আবুল কাসেম ভুঁইয়া
বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প অনেক এগিয়ে গেছে। পোলট্রি শিল্পের অবদানে দেশে মুরগির মাংসের চাহিদা অনেকাংশে মিটছে। দেশি মুরগি দিয়ে মুরগির মাংসের চাহিদা মেটানো কখনো সম্ভব হতো না। পোলট্রি শিল্পে উত্পাদিত ব্রয়লার, লেয়ার, সোনালি, ককসহ বিভিন্ন দেশের মুরগির মাংসের চাহিদা মিটছে। আমাদের দেশে ইদানিং উল্লেখিত জাতের মুরগি ছাড়াও বিভিন্ন জাতের উন্নতমানের মুরগির চাষ শুরু হয়েছে। এসব নতুন প্রজাতির মুরগির মধ্যে বিদেশি জাতের মুরগি ব্রাহামা মুরগি অন্যতম। ব্রাহামা জাতের মুরগির আদি নিবাস চীনে। আমেরিকার গবেষকরা সুদূর চীন থেকে ব্রাহামা জাতের মুরগি সংগ্রহ করে আমেরিকায় পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করে। এতে আমেরিকার গবেষকরা সফল হয়। আমেরিকায় উত্পাদিত ব্রাহামা মুরগি চীনের ব্রাহামা মুরগির চেয়ে আকারে এবং ওজনে অনেক বড়ো হয়ে থাকে। আমেরিকা, ইউরোপে ব্রাহামা জাতের মুরগির মাংসের বেশ কদর রয়েছে। ব্রাহামা বড়ো আকারের মুরগি। কিছু কিছু প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ স্ত্রী মুরগির ওজন হয় ৬ কেজির মতো। তবে সাধারণত এদের গড় ওজন হয় মোরগ ৫.৫ কেজি আর মুরগির ওজন হয় ৪.৫ কেজি। ব্রাহামা মুরগির ডিম সাধারণ মুরগির চেয়ে বড়ো হয় এবং বাদামি রঙের হয়। ডিমের গড় ওজন হয় ৫৫-৬০ গ্রাম। ব্রাহামা জাতের মুরগি আমাদের দেশের আবহাওয়া সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে। কারণ ব্রাহামা মুরগি গরম বা ঠান্ডা যেকোনো আবহাওয়াতে স্বাভাবিক থাকে। বাংলাদেশে ব্রাহামা জাতের মুরগি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পালন করা সম্ভব। আমাদের দেশের যারা পোলট্রি শিল্পের সাথে জড়িত আছেন তারা এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে পারেন। তবে আমাদের দেশে এরই মধ্যে অনেকেই শখের বশে ব্রাহামা মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। তবে তা খুবই সীমিত আকারে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্রাহামা মুরগির খামার গড়ে তুললে খামারীরা যেমনি লাভবান হবেন, তেমনি দেশে মাংসের চাহিদা অনেকখানি মিটে যাবে।
