যশোরে জনপ্রিয় হচ্ছে বেগুনি বাঁধাকপির চাষ

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৫১

যশোর অফিস

দূর থেকে চারপাশের সবুজ পাতায় ঢাকা বাঁধাকপির খেত দেখে বিভ্রম হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু খেত থেকে তোলার পর বোঝা যাবে এটা আসলে প্রচলিত সাধারণ বাঁধাকপি নয়। এর ভেতরের রঙ বেগুনি। খেতে সুস্বাদু এই সবজির নাম হলো পিংক ক্যাবেজ। কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে পরিচিত বেগুনি রঙের বাঁধাকপি হিসেবে। অন্য কপির চেয়ে এর দাম এবং ওজনে বেশি হয়। বাজারেও এই কপির চাহিদা প্রচুর।

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, সাতমাইল, আব্দুলপুরের মাঠে প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে বেগুনি রঙের বাঁধাকপি। কৃষকরা বলছেন, বাজারে নতুন জাতের এই বাঁধাকপির চাহিদা রয়েছে। ওজনেও বেশি হয়। সাধারণ বাঁধাকপির চেয়ে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি হয়। তাই বিক্রি করে বেশি লাভ হচ্ছে। নতুন জাতের বাঁধাকপি ফলন ও দাম বেশি হওয়ায় অন্য চাষিরাও এটি চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। পোলতাডাঙ্গা গ্রামের আমিন উদ্দিন, মিন্টু ও বাবু দুই বিঘা করে, বাগডাঙ্গার মনোয়ার হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও আব্দুল মান্নান এক বিঘা করে জমিতে বেগুনি বাঁধাকপির চাষ করেছেন।

আমিন উদ্দিন জানান, ভারতে বেড়াতে গিয়ে তিনি এই বাঁধাকপির বীজ কিনেছিলেন। গত বছর এই জাতের বাঁধাকপির চাষ তিনিই প্রথম করেছিলেন। দুই বিঘা বাঁধাকপি উত্পাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। বিক্রি করছেন ২৫ টাকা কেজি দরে। ইতোমধ্যে তিনবার এক হাজার পিস কপি বিক্রি করেছেন ৩০ হাজার টাকায়। এখনো তার খেতে আনুমানিক ৯ হাজার পিস পাতাকপি রয়েছে। এসব কপি তিনি ২ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। বাজারজাতের প্রথম অবস্থায় খুচরা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, রুবি কিং জাতের পিংক ক্যাবেজ বাঁধাকপি এই এলাকায় প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে। আগামীতে চাষের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে তিনি আশা করেছেন। তিনি জানান, সাধারণ বাঁধাকপির চেয়ে কৃষকরা এই কপির দাম বেশি পাচ্ছেন। আবার ওজনেও বেশি।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, সাধারণ বাঁধাকপির চেয়ে বেগুনি রঙের বাঁধাকপি চাষ করে চাষিরা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছেন। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে যশোর সদর উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে এই কপির চাষ হয়েছে।