বিপ্লব বিশ্বাস
এখন থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে আমাদের দেশে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে এর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও ধীরে ধীরে পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের ভয়াবহ ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানা যায়। কিন্তু ততদিনে প্লাস্টিক ও পলিথিনজাত দ্রব্য ব্যবহারে মানুষ ব্যাপকভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। অবশেষে ব্যবহার শুরুর ১৫ থেকে ২০ বছরের মাথায় ২০০২ সালে এর উত্পাদন, মজুদ ও ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে এই আইনের কার্যকারিতাও শিথিল হয়ে পড়ে। বর্তমানে সারা দেশেই এর ব্যাপক উত্পাদন ও ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য দ্রব্যের প্রায় সবগুলোতেই পলিথিন ও প্লাস্টিক মোড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। দামে সস্তা হওয়ায় দরিদ্র মানুষেরা ঘরের বেড়া ও চালে খুব সহজেই পলিথিন ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া পানি নিরোধক হওয়ায় পণ্য বহন ও প্যাকেটজাতকরণে পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক বোতল ও পাত্রের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
তবে ব্যবহারের পর বর্জ্য হিসেবে এই পলিথিন ও প্লাস্টিক মোড়ক ড্রেন, রাস্তা, নদী-নালা, খাল-বিল ও ফসলের মাঠে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে পরিবেশ যেমন মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, তেমনি ফসলের জমির উর্বরতাও হ্রাস পাচ্ছে, ড্রেন বন্ধ হয়ে ময়লা পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, শহরে জলাবদ্ধতা বাড়ছে, নদ-নদীর তলদেশে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য জমে নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে, পানি দূষিত হয়ে মাছ, অন্যান্য জলজ প্রাণী ও জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এভাবেই প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে দিন দিন দেশ এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা খুব সহজ কাজ নয়। একমাত্র ব্যবহূত প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার বা ধ্বংসের মাধ্যমে পরিবেশকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। এই সংগ্রহ করা বর্জ্যের একটি অংশ দিয়ে নতুন জিনিস তৈরি করা সম্ভব আর চিকিত্সাব্যবস্থায় ব্যবহূত জীবাণুযুক্ত ও বিষাক্ত অংশ সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংস করতে হবে যাতে পরিবেশের ওপর প্রভাব না পড়ে। এই বর্জ্য সংগ্রহ বা ধ্বংস করতে যে খরচ হবে তা প্লাস্টিক ও পলিথিনজাত দ্রব্যের উপর বাড়তি করারোপ করেই মেটানো সম্ভব।
ফরিদপুর
