আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী গতকাল শুক্রবার যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন মরহুমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সকাল ৮টায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সৈয়দ আশরাফের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষে সৈয়দ আশরাফের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম রাজনীতিবিদদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। রাজনীতির একজন ‘পারফেক্ট ম্যান’। তার ত্যাগ-তিতিক্ষা জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের একজন বিরল রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফ। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর এই সুযোগ্য পুত্র আমাদের পার্টির পরপর দুই বার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের জন্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে সৈয়দ আশরাফ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একজন পারফেক্ট ম্যান ছিলেন সৈয়দ আশরাফ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, তার জীবন থেকে আমাদের সকলেরই শিক্ষা নেওয়ার আছে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নম্রতা, সততা ও বিনয় ভবিষ্যত্ রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, আমি মনে করি তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী তখনই সার্থক হবে যদি আমরা তার মতো আচরণে বিনয়ী, নম্র এবং বাস্তব জীবনে তার মতো সত্ হতে পারি। আজ সৈয়দ আশরাফের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, এখান থেকে আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম শিক্ষা নিতে পারবে। এ সময় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন তার বোন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শামছুন নাহার চাপা, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন নাহার লাইলী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার ও মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। সৈয়দ আশরাফ ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
গতকাল আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সৈয়দ আশরাফ স্মৃতি পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
