গবেষণা অনুযায়ী এই মুহূর্তে ব্রিটেনের মানুষ নিরামিষ খাবারের পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় করছেন। ট্রেন্ড অনুযায়ী বড়ো সুপারমার্কেটগুলোও এই চাহিদা বুঝে নিরামিষ খাবারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ খাবার বেশি রাখতে শুরু করেছেন। মজার বিষয় হলো, শুধু যুক্তরাজ্য নয় গোটা দুনিয়াতেই ভেগানিজম বা নিরামিষাশীর সংখ্যা বাড়ছে। কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই গত তিন বছরে ভেগানিজমের বিস্তার হয়েছে ৬০০ গুন বেশি। তবে হঠাত্ করে কেন সারা বিশ্বে নিরামিষাশীর সংখ্যা বেড়েছে সেটিও একটি বড়ো প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। মূলত স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করেই মানুষ নিরামিষ জাতীয় খাবারে বেশি অভ্যস্ত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষ বিশেষ করে নারীরা নিরামিষ খাবারের দিকে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এর পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতাই মুখ্য ভূমিকা রাখছে; এর পরেই রয়েছে পরিবেশসচেতনতা। যুক্তরাষ্ট্রের এক জরিপে দেখা যায়, ৪৯ শতাংশ মানুষ তাদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে খাদ্যতালিকায় মাংস না রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। কারণ লাল মাংস বা প্রক্রিয়াজাতকৃত মাংস খেলে অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেক গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে। অনেকে আবার দীর্ঘজীবী হওয়ার আশা নিয়ে নিরামিষভোজী হয়ে থাকেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিরামিষভোজী হওয়ার কিছু উপকারী দিক থাকলেও তা মানুষের দীর্ঘ জীবনের কোনো নিশ্চয়তা দেয়—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভেগান বা নিরামিষাশীদের খাদ্য তালিকায় কোনো প্রকার প্রাণীর মাংস, মাছ, দুগ্ধজাতীয় খাবার কিংবা ডিম থাকে না। আর ভেগান সোসাইটির তথ্য মতে, গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে ভেগানিজমের বিস্তার বেড়েছে ৪০০ গুণ। সামাজিক মাধ্যমের তারকারা রীতিমতো নিরামিষভোজী হতে মানুষকে উত্সাহিত করতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। গুগল সার্চেও বিষয়টি ব্যাপক জনপ্রিয়। নিরামিষভোজীদের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি যেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়, তার মধ্যে রয়েছে—ভেগান খাবার কী? এটা কতটা টেকসই এবং জলবায়ু পরিবর্তনে এর ভূমিকা কী? —বিবিসি
