কঙ্গোতে আবারও ইবোলার প্রাদুর্ভাব

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:২৮

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলায় আক্রান্ত হইয়া দুই শতাধিক লোকের মৃত্যু হইয়াছে। গত শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করিয়াছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হইতে জানানো হয় যে, আগস্ট মাসে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর হইতে এখন পর্যন্ত প্রায় তিনশত ব্যক্তি আক্রান্ত হইয়াছে। আক্রান্তদের অর্ধেক নর্থ কিভু অঞ্চলের বেনি শহরের। সেই শহরটিতে প্রায় ৮ লক্ষ লোকের বাস। চরম উদ্বেগের বিষয় হইল, কেবল এই ৮ লক্ষ লোকই নহে, বরং দেশটির বন্দরনগরী বানডাকা হইতে রাজধানী কিনশাসায় বসবাসকারী প্রায় এক কোটি মানুষই মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসবাহিত এই রোগটির ঝুঁকির মধ্যে রহিয়াছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গেলেও তাহা মহামারী আকার ধারণ করিয়াছিল ২০১৩-১৫ সালে। কাড়িয়া লইয়াছিল হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। আক্রান্ত মানুষের সেবা করিতে গিয়া দেশ-বিদেশের বহু চিকিত্সক এবং স্বাস্থ্যকর্মীকেও মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করিতে হইয়াছে। শুধু তাহাই নহে, পশ্চিম আফ্রিকার সীমানা ছাড়াইয়া আতঙ্ক ছড়াইয়া পড়িয়াছিল বিশ্বব্যাপী। সেই আতঙ্ক যে একেবারে অমূলক ছিল না তাহার প্রমাণও পাওয়া গিয়াছিল হাতেনাতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্ববাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই মহামারী রুখিয়া দেওয়া সম্ভব হইলেও বিশ্ববাসী যে এখনো পুরোপুরি বিপদমুক্ত হইতে পারেন নাই—নূতন করিয়া ইবোলার বিস্তার তাহারই সতর্কবার্তা বলিলে অত্যুক্তি হইবে না।  

মনে রাখা আবশ্যক যে, প্রথম প্রাদুর্ভাবের পর ইহা ইবোলার নবম দফা আক্রমণ। তদুপরি রহিয়াছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী অকপটেই স্বীকার করিয়াছেন যে, এই রোগ প্রতিরোধকারী দলের সদস্যরা প্রাণঘাতী হামলার শিকার হইতেছেন। তাহাদের সরঞ্জামাদি ধ্বংস করিয়া দেওয়া হইতেছে। অতএব, স্বস্তির বিন্দুমাত্র অবকাশও নাই বলিলেই চলে। আশার বিষয় কেবল এইটুকু যে, কঙ্গো সরকার রীতিমতো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো করিয়াই ইবোলার সম্ভাব্য মহামারী প্রতিরোধের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাইয়া যাইতেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় একদিকে যেমন গবেষণাগারে চলিতেছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অন্যদিকে অব্যাহত আছে পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনের প্রয়োগ হইতে শুরু করিয়া আপতকালীন সব ধরনের কার্যক্রমও। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হইতেছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর। কারণ রোগটি ছড়ায় মূলত অসুস্থ ব্যক্তির রক্ত, লালা, বীর্য, বমি, মল, থুথু, শ্লেষ্মা বা শরীর হইতে নির্গত অন্য কোনো তরলের সংস্পর্শের মাধ্যমে। ইবোলায় মৃত্যুহার সর্বনিম্ন ৫০ ভাগ হইতে শতভাগ পর্যন্ত। তবে ইহাই উদ্বেগ বা আতঙ্কের একমাত্র কারণ নহে। এখনও পর্যন্ত রোগটি প্রতিরোধের কার্যকর হাতিয়ার করায়ত্ত করা যেমন সম্ভব হয় নাই, তেমনি চিকিত্সায় সাফল্যের হারও খুবই হতাশাব্যঞ্জক। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে গুটি বসন্তের মতো ইবোলাও পরাস্ত হইতে বাধ্য। সেইটি না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সদা সতর্ক ও সচেতন থাকিতে হইবে। শিরোধার্য করিতে হইবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে। বলা অনাবশ্যক যে ইবোলা শুধু নহে, অধিকাংশ রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেই এই কথা প্রযোজ্য।