কিছু জেলার নামকরণের অন্য ইতিহাস!

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩৫

 শফিক হাসান

 

যত যা-ই বলা হোক, ‘নামে কিবা আসে যায়’, বাস্তবতা হলো নামে অনেক কিছুই আসে, আবার যায়ও! তা-ই যদি না হতো ‘কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন’ প্রবাদের জন্ম হতো না! নামকরণের বিষয়টি মানুষের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি স্থানের ক্ষেত্রেও! আপাতত মানুষকে পাশ কাটিয়ে দেশের কয়েকটি জেলার নামকরণের নেপথ্য ইতিহাস উদ্ঘাটনে প্রয়াসী হই—

 

ঢাকা

রাখঢাক অনেকেই পছন্দ করে। ‘প্রাইভেসি’র আরেক নাম রাখঢাক। রাজধানী ঢাকার নামকরণের পেছনে রয়েছে লুকোচুরির ইতিহাস! প্রাচীন বাংলার কেউ একজন অনুমান করতে পেরেছিলেন, আগামীতে জাহাঙ্গীরনগরই হবে বাংলাদেশের রাজধানী। রাজধানী হলে সেখানে অনেক রাখঢাক, লুকোচুরির ঘটনা ঘটবে! অনেকেই অনেক কিছু দিনের আলো থেকে আড়াল করতে চাইবে! এই ভাবনা থেকে তিনি কাজের সঙ্গে নামের সমন্বয় ঘটাতে ঢাকা নামটি প্রতিষ্ঠা করতে তত্পর হলেন। বলা বাহুল্য, এক্ষেত্রে শতভাব সফল তিনি; দূরদর্শিতা নিয়ে নিতান্ত কৃপণও প্রশংসা করতে ভুলবে না। আক্ষরিক অর্থেই ঢাকা ঢেকে রাখার মানসিকতার নগরীতে পরিণত হয়েছে। এখানে খুনি, দখলবাজ, লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, অসত্ কর্মকর্তা, ঘুষখোর সবই আছে—লুকানো!

 

মানিকগঞ্জ

অনেক জিনিসপাতিই গঞ্জে বিক্রি হয় :তেল, নুন, সুতা, চাল, ডাল, জুতা... মুড়ি, মুড়কি, খই, আম, আনারস, দই! তাই বলে মানিক মানে রত্নও বিক্রি হয় গঞ্জে? আলবত! প্রাচীন বাংলায় অবশ্যই বিক্রি হতো। প্রকাশ্যে মানিক বেচাকেনার হাট বসত। বেচাকেনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার ফলে ‘সোনার বাংলা’ শব্দদ্বয়ের ব্যবহার শুরু হয়। হাটবাজারে সোনা বিক্রি হয়, স্বাভাবিকভাবে এটাকে আদর করে সোনার বাংলা ডাকা যেতেই পারে! তারপর লুটেরা বণিকগোষ্ঠী—ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ঢুকল। কালসাপের মতো ছোবল ছিনিয়ে নিতে শুরু করল বাংলার সম্পদরাশি নিয়ে। অবস্থা এমন, মানিকের অস্তিত্বই বুঝি থাকবে না! বুঝতে পেরে জনৈক মানিক বাবু (মতান্তরে মানিক মিয়া!) সবচেয়ে বেশি মানিকরত্ন বিক্রি হওয়ার স্থানটার নামকরণ করলেন মানিকগঞ্জ। নামকরণেই ক্ষান্ত হননি, সৃষ্টি করলেন নতুন পেশাজীবী—জ্যোতিষী। জ্যোতিষীরা সেই থেকে শুরু করে বর্তমানেও রত্নপাথর, মানিকের চর্চা করে যাচ্ছে!

 

রাজবাড়ি

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজবাড়ি? অসম্ভব! হতেই পারে না, রাজবাড়ি কেন? এখন কি রাজা-বাদশাহর যুগ? রাজাদের কোনো আমলেই কি ভালো চোখে দেখা হতো! ইতিহাসে অমনোযোগীরা হাপিত্যেস করতেই পারে। ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ না করে বর্তমানে গণতন্ত্রের মুখোশ এঁটে যে রাজা-রানিরা বাড়ি-গাড়ি করে যাচ্ছেন সেদিকেই অনুসন্ধানী দৃষ্টি দেওয়া উচিত! হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি নামে আখ্যায়িত করেছিলেন। এটা অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিলেন প্রখর জ্ঞানশক্তিসম্পন্ন একজন নাগরিক। তড়িঘড়ি করে দেশের একটি জায়গার নাম রাখলেন রাজবাড়ি। যাতে অন্যরা বোঝে, রাজবাড়ি থাকা দেশ কোনোমতেই দরিদ্র হতে পারে না! রাজবাড়ি গৌরবের অংশ হয়ে এখনো আলো ছড়াচ্ছে। কিন্তু হেনরি কিসিঞ্জারের মতো কানারা দ্যুতিটুকু দেখতে পান না!

 

কিশোরগঞ্জ

শিশুপার্ক আছে কিন্তু বয়স্কপার্ক বলে কিছু নেই কেন! প্রশ্নটি শিশুদের মনে জাগতে পারে, বয়স্ক মানুষের মনেও! উত্তরটা সোজা, কোন জায়গাটা বয়স্কদের ‘পার্ক’ নয়! পার্ক বলতে বিনোদনকেন্দ্র, অবসরযাপন, নির্বিঘ্নে দু’দণ্ড শ্বাস ফেলার স্থানকে বোঝানো হয়। বয়স্করা কোন জায়গাটায় এ ধরনের কাজ করছেন না? সারা দেশই বয়স্কদের পার্ক! সুযোগ পেলেই তারা আড্ডাবাজি, গালগল্পে মেতে ওঠেন। অফিস কিংবা বাসাবাড়িতে! আড্ডার বড়ো অংশজুড়ে থাকে পরনিন্দা, রাজনীতিচর্চা। বিষয়গুলো মোটেই কিশোর উপযোগী নয়। কিশোরদের চিত্তবিনোদনে আলাদা স্থানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেলেন অনেকেই। যাতে বড়োদের ‘অযাচিত’ কথা কিশোরদের কানে না আসে! সে লক্ষ্য থেকে কিশোরগঞ্জ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু পরের ইতিহাস করুণ! বড়োরা ধীরে ধীরে বড়োত্ব হারাতে শুরু করলেন। এখন বড়ো আর কিশোরদের মধ্যে পার্থক্য নেই। বড়োদের আক্কেলজ্ঞান, বিচারবুদ্ধি তলানিতে নেমে এসেছে—পুরো দেশই কিশোরগঞ্জে পরিণত হয়েছে!

 

নেত্রকোনা

সবকিছুর কোনা থাকতে পারে, চোখের পারে না? আলবত্ পারে! পারে বলেই নেত্রবান মানুষটি নেত্রকোনা নাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখলেন! রাস্তার কোনায় অপ্রয়োজনীয় জঞ্জালগুলো পড়ে থাকে, ঘরের কোনায় তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো। নেত্রকোনা তথা চোখের কোনায় যে সবচেয়ে বড়ো জিনিসটি স্থান পায়, যথার্থভাবে উপলব্ধি করলেন নেত্রবান মানুষটি। চোখের কোণ অনেকেই কাছেই হেলাফেলার—এটা আর এমনকি, পিচুটি জমানো, ফ্যা-ফ্যা-ফ্যা করে কাঁদার আশ্রয়স্থল! বেহুদা অশ্রুজল পানির ঘাটতি মেটাতে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারে না! দূরদর্শী ভদ্রলোক এও উপলব্ধি করলেন—অনেকেই চোখ থাকতেও অন্ধ! নেত্রকোনা নামটি চাউর করে দেওয়া গেলে হয়তো কেউ কেউ নেত্রের গুরুত্ব বুঝে চক্ষুষ্মান হওয়ার চেষ্টা করবে! হা হতোস্মি, সবারই অন্ধ হওয়ার দিকেই ঝোঁক! এদেশের আইন অন্ধ, প্রশাসন অন্ধ, বিরোধী দল অন্ধ, সরকারি দল অন্ধ...! নেত্রকোনা না গিয়েও এ অন্ধদের মানসিকতা অনুভব করেই জীবনানন্দ দাশ লিখতে বাধ্য হলেন, যারা অন্ধ তারাই আজ চোখে বেশি দ্যাখে!

 

বান্দরবান

বানরের আঞ্চলিক রূপ বান্দর। কোনো বাচ্চা বেশি দুষ্টুমি করলে তাকে বান্দর নামে বকা দেওয়া হয়। বান্দরবানের নামকরণের ইতিহাসে বান্দরের সঙ্গে বানের হিসাবটাও এসে পড়ে! বান মানে বন্যার পানি। এখানে প্রতীকী অর্থে ব্যবহূত হয়েছে শব্দটা। নামকরণকারী ভদ্রলোক দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পেয়েছিলেন, ঢলের পানির মতো অসংখ্য বানর নেমে আসবে এই বাংলায়, লাফঝাঁপে প্রকম্পিত করে তুলবে চারদিক! সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাবে, চিমটি দেবে, খামচি দেবে! ট্র্যাজেডি হলো, প্রবণতাটি বান্দরবানে খুব একটা নেই কিন্তু মহামারীর মতো ছড়িয়ে গেছে সারা দেশে! বাংলাদেশের রাজনীতি নামক খেলার মাঠে এখন বড়ো খেলা বানর লাফ! সুযোগ বুঝে এই দল থেকে ঐ দল, ঐ দল থেকে এই দলে যত বেশি, যত ভালোভাবে দৌড়ঝাঁপ দেওয়া যাবে—তত বড়ো নেতা! চিড়িয়াখানার বান্দররাও আজকাল নিজেদের দৌড়ঝাঁপের স্টাইল, ট্র্যাক পাল্টে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। ডারউইনের তত্ত্ব নিয়ে অনেক বানরই মহাবিব্রত—তবে কি তারাও একদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বানের পানির মতো ভেসে আসবে...!

নোয়াখালী

নোয়া মানে নতুন আর খালী মানে খালিই—ভরা হওয়ার কোনো কারণ নেই! নতুনত্বে বিশ্বাসী কোনো এক বাঙালি অনেক আগেই এটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। উপলব্ধি এবং বাস্তবতাবোধ থেকে নামকরণ করলেন—নোয়াখালী। শব্দটির ভেতর একটু প্যাঁচ থাকলেও অর্থ বুঝতে সমস্যা হয় না—নতুনরা এলে পুরোনোরা জায়গা ছেড়ে দেবেন! অর্থাত্ নতুনদের জন্য জায়গা খালি করে দিতে হবে। যাতে নতুনরাও বড়ো হয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে জায়গা দিতে পারে। চমত্কার বিষয়টি মুগ্ধ করেছিল সুকান্ত ভট্টাচার্যকে। মুগ্ধতার রেশ থাকতে থাকতেই নোয়াখালীর কয়েকজন অধিবাসীর সঙ্গে আলাপ করে লিখলেন সেই অমর কবিতা—এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান! বর্তমানে অবশ্য নোয়াখালী নামের ভাবার্থে কিঞ্চিত্ পরিবর্তন এসেছে। এখন দখলদাররা নিজেদের কাজকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নোয়াখালী শব্দের ভিন্ন অর্থ করছে! মালিকানা বদলে দেওয়ার (আসলে নেওয়ার!) নামই হলো নোয়াখালী!

 

সুনামগঞ্জ

গোয়ালভরা গরু, পুকুরভরা মাছ, গোলাভরা ধান—সেই সঙ্গে বাংলার মানুষের সহজ-সরল চরিত্র যে বেশি দিন টিকবে না আগেই বোঝা গিয়েছিল! যিনি বুঝেছিলেন সুনামটাকে ধরে-বেঁধে রাখার মানসে একটি জায়গার নামকরণ করলেন সুনামগঞ্জ। মনে তার গূঢ় বাসনা ছিল, পুরো বাংলায় না হোক, অন্তত এখানটায় টিকে থাকবে দেশের সুনাম। চিহ্নিত কয়েকটি জায়গায় যাতায়াত করলে মানুষের দুর্নাম হয়। কিন্তু সুনামগঞ্জ হবে এমন জায়গা—যেখানে গমন করলে মানুষের সুনাম-যশ-সমৃদ্ধি শনৈ শনৈ বাড়বে! অন্য অনেক কিছুর মতোই এ স্বপ্নটাও বেহাত হয়ে গেছে! খোদ সুনামগঞ্জও অতীতের সুনামটুকু ধরে রাখতে পারছে না। সুনামগঞ্জের হাওর কিছু মাছের জোগান দিচ্ছে সত্য, সেটাকে কিছুতেই ‘পুকুরভরা মাছ’ বলার সুযোগ নেই! সুনামগঞ্জে যাতায়াত করলে কারো সুনাম বাড়ে না, বরং যানবাহনের ভাড়া বহন করার কারণে গাঁটের পয়সা কমে!

 

ভোলা

ভুলে গেলে যদি লাভবান হওয়া যায়, তবে ভুলে যাওয়াই ভালো! আলাভোলা স্বভাবের জনৈক ভোলানাথের মনে এক নিশুতি রাতে এ দর্শনের উদয় হয়! তিনি উপলব্ধি করেন, ভুলে যাওয়ার চেয়ে বড়ো ওষুধ মানবজীবনে কিছুই হতে পারে না! অনেক জরুরি বিষয়ও ভুলে যান বলে ভোলানাথের বদনাম আছে। কিন্তু জন্মস্থানের প্রাচীন নামটি বাদ দিয়ে ভোলা নামটি প্রতিষ্ঠা করতে কিছুতেই ভুললেন না! ভোলাবাবুর চিন্তা সংক্রমিত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের মাঝেও। অনেকেই ইতিমধ্যে ভুলতে বসেছেন বাংলাদেশে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল, যুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন ৩০ লক্ষ মানুষ, ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ২ লক্ষ নারী। জনসেবার নাম করে যে জনপ্রতিনিধিরা দেশের সর্বনাশ করে যান নিয়মিত—আমরা তাদের সব ভুলে আবার ভোট দিই। আবার তারা ক্ষমতায় আসে! এ এক দুর্ভেদ্য চক্র!

 

ঝালকাঠি

কাঠি ব্যবহার করলেই জালে বেশি মাছ উঠবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই! কারণ ছাড়া জাল বানানোর সময় কাঠির ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী! তরকারি ঝাল দেওয়ার জন্যও কাঠি প্রয়োজনীয় উপাদান। লেবেঞ্চুসের আধুনিক নাম ঝালকাঠি হতেই পারে! অবশ্য লেবেঞ্চুস শুধু ঝাল কাঠি নয়—মিষ্টি কাঠিও! এ কাঠির বাইরে আরেকটি কাঠি আছে—কলকাঠি! ঝালকাঠি নামকরণের সময় এর উদ্যোক্তা কোনো কলকাঠি নেড়েছিলেন কি না বর্তমানে জানার উপায় নেই। কিন্তু বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কলকাঠি বহুল প্রচলিত এবং অতি ব্যবহূত জিনিস! কলকাঠি নাড়ানোর মাধ্যমে কোথাকার জল কোথায় বইয়ে দেওয়া যায়, তা বোঝা কঠিন।

 

কুড়িগ্রাম

গ্রামপ্রধান রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ একটি বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই জিইয়ে রেখেছে—কেউ বলছেন বাংলাদেশের গ্রাম ৬৮ হাজার, আবার কারো কারো মতে ৮৫ হাজার! সংখ্যাটা আসলে কত—অনেকেই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। শুধু কুড়িগ্রাম আছে সকল ‘সন্দেহ’, ‘অবিশ্বাসের’ বাইরে! ৬৮ হাজার গ্রাম থিওরির প্রবক্তা জনৈক কবি ও প্রেমিক রাষ্ট্রপতি। হাঁটুপানিতে নেমে যিনি স্লোগান বানিয়েছেন—৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে! তার ক্ষমতা অবশ্য বেশি দিন বাঁচেনি। উল্টো বরণ করে নিতে হয়েছে স্বৈরাচারী খেতাবের মর্যাদা! ৬৮ ও ৮৫ নিয়ে প্রশ্ন আছে, কিন্তু কুড়িগ্রামের গ্রাম আসলে ২০টি কি না প্রশ্নটি কেউই করে না! নামকরণকারীর সত্যনিষ্ঠা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে না। একই কথা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। চৌদ্দগ্রামে কি ১৪টি গ্রামই থাকবে নাকি চট্টগ্রামের মতো প্রকৃতপক্ষে কোনো গ্রামই থাকবে না! এ প্রশ্নও কেউ করে না—সাতক্ষীরা কেন, ওখানকার ক্ষেতে কি শুধু ৭টি খিরাই ধরে!

 

গাইবান্ধা

অনেক কিছু ‘বান্ধা’ হয়ে থাকে, সাধারণ মানুষের ভাগ্য বাঁধা কিছু ‘অসাধারণ’ মানুষের হাতে! তারা নিজেদের কুটিল স্বার্থ চরিতার্থ করতে নানাভাবেই বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ান। গাইয়ের মতো নিরীহ একটি পশু বাঁধাই থাকবে, এ নিয়ে কারো দ্বিমতের অবকাশ নেই। বরং ছেড়ে দিলেই ক্ষতি, অন্যের ফসল বিনষ্টের কারণ হবে! বাংলাদেশের জেলখানায় খারাপ মানুষেরা বন্দী থাকে। গাই বাঁধা থাকে গোয়ালে, মাঠে। অন্যদিকে আরো কিছু প্রাণীকে বেঁধে রাখা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে তারা সাধারণ মানুষের অনিষ্ট করার সুযোগ না পায়! কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টিটি বাঁধবে কে! বিড়ালের মুখের ওপর কে বলবে ‘তুই বিলাই’!