স্পোর্টস ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে দ্বিতীয় দিনেও সিডনিতে ছিল মার্নাস লাবুশেনের দাপট। আর সেটা এতটাই যে, এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান খেলে ফেলেছেন ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। ডাবল সেঞ্চুরি করে তবেই গতকাল তিনি থেমেছেন। এর সুবাদে অস্ট্রেলিয়া রানের পাহাড় গড়েছে। অল আউট হওয়ার আগে টিম পেইনের দলের সংগ্রহ ৪৫৪।
জবাব দিতে নেমে অবশ্য নিউজিল্যান্ডও মন্দ করছে না। দুই ওপেনার টম ল্যাথাম ও টম ব্লান্ডেল অজি পেসারদের মোক্ষম জবাবই দিয়েছেন। বিনা উইকেট দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে সফরকারীদের সংগ্রহ ৬৩ রান। ব্লান্ডেল ৩৪ ও ল্যাথাম ২৬ রান করে অপরাজিত আছেন। তাদের এই সংগ্রহ এসেছে ২৯ ওভারে। এর আগে সকালের সেশনটা আবারও ছিল লাবুশেনের দখলে। তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছেন। ৩৬৩ বল মোকাবিলা করে করেছেন ২১৫ রান। এর মধ্যে ছিল ১৯টি চার ও একটি ছক্কা। দ্বিতীয় দিনে অবশ্য লাবুশেনের যোগ্য সঙ্গী হতে পারেননি কেউই। অধিনায়ক টিম পেইনের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান।
পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিতে দলকে ৪০০ রানে নিয়ে যান লাবুশেন। তিন চারে ৩৫ রান পেইনকে বোল্ড করে ৭৯ রানের জুটি ভাঙেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। এর পর আর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি লাবুশেন। আগের দিন ১৬৩ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করা এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ডাবল সেঞ্চুরিতে যান ৩৪৬ বলে। টড অ্যাস্টলকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় ইতি ঘটে নান্দনিক এই ইনিংসের। ছোট্ট একটা রেকর্ডও করে ফেলেছেন লাবুশেন। টেস্টে ক্যারিয়ারের ২২ ইনিংস শেষে ১৪০০ কিংবা এর বেশি রান করতে পেরেছেন এর আগে মাত্র চার জন। লাবুশেন এই তালিকায় ঠাঁই পাওয়া পঞ্চম ব্যক্তি। সবার ওপরে আছেন তারই স্বদেশী স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। তিনি ২২ ইনিংস শেষে করেছিলেন ২১১৫ রান। লাবুশেনের ফেরার পরই যেন নিউজিল্যান্ডের আক্রমণে প্রাণ ফিরে আসে। অন্যদিকে শেষের দিকে দ্রুত উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ৪৪ রানে। লেজের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল মিশেল স্টার্ক। তিনি ২১ বলে করেন ২২ রান। এর সুবাদেই ইনিংসটাকে ৪৫৪ অবধি টেনে নিয়ে যেতে পারে অজিরা। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল পেসাররাই। সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন দুই পেসার নিল ওয়াগনার ও কলিন ডি গ্যান্ডহোম।
জানিয়ে রাখা ভালো, তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে চলমান তৃতীয় ও শেষ টেস্ট অজিরা জিতলেই হোয়াইটওয়াশ হয়ে যাবে ব্ল্যাকক্যাপরা।
