ময়মনসিংহের বিস্তৃত বনাঞ্চল। বনের ভেতর রয়েছে অসংখ্য বানর। আর এমন বনাঞ্চলে অন্তত ৫ কিলোমিটার জুড়ে কভার ছাড়া তারেই দেওয়া হয়েছে বিদ্যুতের সংযোগ ।
বনবিভাগ ও স্থানীয়দের দাবির মুখে পল্লীবিদ্যুৎ প্রশাসন লোক দেখানো সংস্কার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে প্রতিদিনই খোলা বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎপৃষ্ট হচ্ছে বনের ভেতরে বসবাস করা অসংখ্য বানর।
দৈনিক ইত্তেফাকে ‘বিদ্যুৎ চাই না বানর বাঁচান’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের কিছুটা টনক নরলেও খোলা তারেই বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ। তবে সংবাদটি প্রকাশের পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন মুক্তাগাছা পল্লীবিদ্যুতের জিএম মকবুল হোসেন।
আরও পড়ুন: তীব্র শীত আর ঘনকুয়াশায় কাহিল হয়ে পড়েছে ফুলবাড়ীর জনজীবন
রবিবার উপজেলার সন্তোষপুর বনবিটে সরেজমিনে দেখা যায়, ৫ কি.মি. বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যে ৪/৫ টি খুঁটির দুই তারের মধ্যবর্তী স্থানে বেশি জায়গা রেখে পুনরায় বিদ্যুৎ দিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ। এতে এ পর্যন্ত ১০ টির বানর বিদ্যুৎতায়িত হয়েছে। এদের মধ্যে একটি বানর মারা গেছে। একটি বানরের মুখমণ্ডল ঝলসে যাওয়া খেতে পারছে না। কোন কিছু খেলে গলা দিয়ে বেরিয়ে পড়ছে। অপর একটি বানরের সামনের হাত বিদ্যুতে ঝলসে গিয়ে মাংস খসে পড়ে হাড় বেরিয়ে পড়েছে। বানরের এমন দুরবস্থা দেখে ব্যথিত দর্শনার্থীরাও।
বনবিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিনই বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে বানরগুলো মুখ, হাত, পা ও শরীর ঝলসে যাচ্ছে। বানরগুলো বনের ভেতর বিচরণ করতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পুড়ে আহত হয়েছে। বানর সংঘবদ্ধ প্রাণী। কোনো বানর বিদ্যুৎপৃষ্ট হলে দলবেঁধে বনের অন্য বানরগুলো ছুটে যায়।
জানা যায়, এই বনে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক বানর রয়েছে। বানরগুলোর বিচরণ ক্ষেত্র পুরো বন এলাকা হলেও সন্তোষপুর বনবিট অফিসের কাছাকাছা তারা বেশি অবস্থান করে। সম্প্রতি পল্লী বিদ্যুৎ বনের ভিতর দিয়ে ৫ কি.মি. নতুন লাইন নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়।
জিএম মকবুল হোসেন কারিগরি ক্রটির কথা উল্লেখ করে ৪/৫ টি খুঁটির দুই তারের মধ্যবর্তী স্থানে বেশি ফাঁকা রেখে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগের নির্দেশ দেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পল্লীবিদ্যুৎ কর্মকর্তা।
সন্তোষপুর বনবিট কর্মকর্তা বলেন আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা পুরো বন এলাকায় কভার তার চাই। বানরের বিচরণ ক্ষেত্র পুরো বন এলাকা। বনের ভিতর দিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ তাদের মত করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে বানরসহ বন্য প্রাণীদের।
ইত্তেফাক/আরআই
