নতুন বছরে কিমের হুংকার চলবে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৩

বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক

 

গত বছরটা ছিল বন্ধুত্বের। দুই দেশের ঠান্ডাযুদ্ধ মিটিয়ে প্রথম উত্তর কোরিয়ার মাটিতে পা রেখেছিলেন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ‘কোরিয়ান ডিমিলিটারাইজড জোন’-এ দাঁড়িয়ে হাত মিলিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন। তারপরেও চলেছে দুই জনের কুশলবিনিময়। কিম চিঠি লিখেছেন ট্রাম্পকে। জবাবে তিনিও লিখে পাঠিয়েছেন দুই কথা। ট্রাম্প বলেছেন কিমের চিঠিটি ‘অসাধারণ’। কিমও জানান, ট্রাম্পের চিঠিটিও নাকি ‘দারুণ’ ছিল। কিন্তু নতুন বছরের প্রথম দিন নববর্ষের শুভেচ্ছা এল না। বরং বছর শেষে মঙ্গলবার হুংকার ছাড়লেন কিম ‘কোরীয় উপদ্বীপে কোনো পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ হবে না।’

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সপ্তম ‘সেন্ট্রাল কমিটি অব দ্য ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া’ বিশেষ বৈঠক ছিল। ঐ বৈঠকে কিম ঘোষণা করেন ‘আমেরিকা যদি তাদের শত্রুমনোভাবাপন্ন আচরণ থেকে সরে না আসে, তাহলে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাবে উত্তর কোরিয়া। শুধু তাই নয়, এবার উত্তর কোরিয়ার তৈরি এক নতুন কৌশলগত শক্তিশালী অস্ত্রের সাক্ষী হবে বিশ্ব।’ এবার নতুন বছরে বিশেষ বক্তৃতাও দেননি কিম। এর মধ্যেও অন্য ‘গন্ধ’ খুঁজে পাচ্ছেন কূটনীতিকরা। তাদের কথায়, বক্তৃতা না দিয়ে কিম আসলে ঠারেঠোরে বোঝাতে চেয়েছেন, গত দুই বছর আমেরিকার সঙ্গে কূটনীতির পথে হেঁটে ভুল করেছেন তারা। ২০১৩ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিয়ে আসছেন কিম। কিন্তু এ বছর তার ব্যতিক্রম ঘটল।

কিমের দেশের অভিযোগ, তারা আমেরিকার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেও ট্রাম্পের দেশ সহযোগিতার পথে হাঁটছে না। উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে এখনো নিষেধাজ্ঞা তোলেনি আমেরিকা। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তার কথায়, ‘আমরাই শুধু প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে যাব, এটা তো হতে পারে না।’ আরো বলেন, ‘নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাব আমরা।’

জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘উনি নতুন করে হুংকার ছাড়লেও, আমি বিশ্বাস করি, কিম এক কথার মানুষ। পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিম নিশ্চয়ই তা রাখবেন।’ তার কথায়, ‘উনি আমার মতো, আমি ওকে পছন্দ করি, আমাদের আবার বন্ধুত্ব হয়ে যাবে। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চুক্তিতে সই করেছিলেন কিম। আমরা সমাধানের পথ খুঁজে বার করবই।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, আশা করি শান্তির রাস্তা বেছে নেবে ওরা।’

উত্তর কোরিয়া বলেছে, দেশের নিরাপত্তার কথা মাথায়  রেখে শক্তিশালী অস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাবে তারা। যত  দিন না ট্রাম্প-প্রশাসন বন্ধুর মতো আচরণ করছে, যথাযথ শান্তি প্রক্রিয়ার পথে হাঁটছে।