উত্তরা মডেল টাউন এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ১নং ওয়ার্ড। উত্তরার ১০টি সেক্টর রয়েছে এই ওয়ার্ডের মধ্যে। এর আয়তন ৬ দশমিক ০৯৫ বর্গকিলোমিটার। প্রায় ৭০ হাজার ভোটার রয়েছে এই ওয়ার্ডে। লোকসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। আবাসিক এলাকা হলেও এখানে রয়েছে ব্যাপক নাগরিক সেবার ঘাটতি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বর্ষাকালে পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকে। বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের কারণে মোড়ে মোড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট, ফুটপাতগুলো রয়েছে হকারদের দখলে। এই এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উত্পাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ উত্তরার সেক্টরগুলোকে আবাসিক সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে নানা কারণে সেক্টরের আবাসিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সেক্টরবাসীর অভিযোগ। সেক্টরের ভেতরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বাসাবাড়িতে, গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় এসব বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। সেক্টরের খালি প্লটগুলোতে অবৈধভাবে রিকশার গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, টং দোকান বানিয়ে ভাড়া তুলছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অন্যদিকে শাহজালাল অ্যাভিনিউ, রবীন্দ্র সরণি, গরিবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউ, সোনারগাঁও জনপদ অ্যাভিনিউর মতো বড়ো সড়ক ও ফুটপাতের জায়গা, এমনকি সড়ক বিভাজকের জায়গা দখল করে হকার বসছে নিয়মিত। এদিকে সন্ধ্যার পরে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে সেক্টরের বাসিন্দারা।
এবার এই এলাকায় আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান। তবে শুদ্ধি অভিযান চলাকালে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে। ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজি, রাজউকের জমি দখল, পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। তবে বর্তমান কাউন্সিলর হিসেবে তিনি বহু কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। নাগরিক সেবা নিশ্চিতে তার কি কি ভূমিকা ছিল ও তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে সে বিষয়ে জানার জন্য তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এই মুহূর্তে কোনো সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে রাজি নই। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরে এ বিষয়ে কথা বলব কি না দেখা যাবে।
অন্যদিকে এই ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে হকারদের পুর্নবাসন করার ব্যবস্থা করব। কিশোর গ্যাং সামাজিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করব। একটি আধুনিক আবাসিক ওয়ার্ড গড়ে তোলার জন্য কাজ করব। একটি পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন আবাসিক এলাকা গড়ে তোলাই হবে আমার কাজ। এছাড়া সারাবছর মশা নিধন কর্মসূচি পালন করব। যারা ছাদে বাগান গড়ে তুলবে নির্বাচিত হলে তাদের পুরস্কারের ব্যবস্থা করব। এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, নাগরিক সেবা যে নিশ্চিত করবে আমরা তাদেরই ভোট দিব। আবাসিক এই এলাকায় নাগরিক সেবার অনেক ঘাটতি রয়েছে। আশা করছি যারা জনপ্রতিনিধি হবেন তারা এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিবেন।
