প্রচারের আগে বিধিভঙ্গের অভিযোগ

কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের দুই মত

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৯

নির্বাচনি আইনানুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবেন না প্রার্থীরা। কিন্তু ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগেই আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। আচরণ বিধি প্রতিপালনে মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হলেও তাদের দৃশ্যমান ভূমিকা নেই। কোথাও যেন আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয়, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে দুই সিটির দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দিয়েছেন দুই রিটার্নিং অফিসার। এদিকে, আগামী ১০ জানুয়ারি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবেন দুই রিটার্নিং অফিসার। এর আগেই কোনো ধরনের প্রচারণা চালানোর সুযোগ না থাকলেও উত্তর সিটির আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর লিখিত অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। আচরণ বিধি প্রতিপালন নিয়ে দুই ধরনের মত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার।

নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আসায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর           নোটিশ দেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি যদি কেউ লঙ্ঘন করে, প্রার্থী যেই হোক না কেন যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম ইত্তেফাককে বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পাননি। তবে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী হাকিমকে বিষয়টি দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

‘শোকজের নির্দেশনা পাননি রিটার্নিং অফিসার’-রবিবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনের সব ক্ষমতা রিটার্নিং অফিসারকে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে তদন্ত করে তিনি শোকজ করবেন।

গত শনিবার বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ঢাকা উত্তরের গুলশান-১ এলাকার গুলশান পার্কে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে একটি নির্বাচনী মঞ্চ করেন। এ সময় মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে নিজের পক্ষে ভোট চান ও ভোটারদের কাছে যাওয়ার জন্য কর্মীদের দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর রোডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন, মোটরসাইকেল র্যালি, নেতাকর্মীদের স্লোগান এবং সংসদ সদস্য (এমপি) ক্যাম্প উদ্বোধন করতে পারে কিনা, আইন কী বলে—এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্যরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। এখানে কিন্তু আইনের একটা ফাঁক আছে। প্রচারণায় অংশ নিতে পারে না, কিন্তু ক্যাম্প উদ্বোধন প্রচারের মধ্যে পড়বে কি না, তা দেখতে হবে। আমরা তাকে বিরত থাকার জন্য বলব। যদি বিরত না থাকে আমরা শোকজ করব।

প্রচারের আগে ক্যাম্প নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের দুই মত :উত্তর ও দক্ষিণ নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনি ক্যাম্প উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার দুই রকমের বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য রাজনৈতিক দল বা অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রতীক বরাদ্দের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না। এছাড়া সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সংসদ সদস্যরাও নির্বাচনি প্রচার কাজে অংশ নিতে পারেন না। ঢাকার দুই সিটির ভোটে প্রার্থীরা প্রতীক পাবেন আগামী ১০ জানুয়ারি। আর সে দিন থেকেই তারা প্রচারকাজ চালাতে পারবেন।

ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারকাজের একটা ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে উত্তরায়। আর সেটি উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে ডিএনসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম বলেন, এই বিষয়ে আমি এখনো কিছুই জানি না। তবে একজন প্রার্থী হবেন নির্বাচনী প্রতীক পাওয়ার পরে। এখনো কেউই কিন্তু প্রার্থী না। অন্যদিকে, ডিএসসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন বলেন, নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারে। কেননা, এটার জন্য তো সময় লাগবে। তবে উদ্বোধন করতে পারবে না। উদ্বোধন প্রচার হিসেবে গণ্য হবে। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন তো অবশ্যই হবে। কারণ এখন তো করতে পারার কথা না। কোনো প্রার্থী যদি আমার দক্ষিণে এমন কাজ করে, তাহলে বলবেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব।

আচরণবিধি নিয়ে দুই রিটার্নিং অফিসারের বৈঠক: নির্বাচনে আচরণবিধি বিষয়ে ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ২৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কোথাও যেন কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন। অন্যদিকে আচরণ বিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য রবিবার সন্ধ্যায় উত্তর সিটিতে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে বৈঠক করেন রিটার্নিং অফিসার।