খুলনা ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ৭১ টেলিভিশনের খুলনা ব্যুরো প্রধান রকিব উদ্দিন পান্নু ওয়াসার ঠিকাদার ও পুলিশি হামলার শিকার হয়েছেন। এসময় হামলাকারীরা টেলিভিশনের ক্যামেরা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে কেএমপির ট্রাফিক পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) রেজাউল বাশার সাংবাদিক পান্নুর হাতে হাতকড়া লাগিয়ে জোর করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। গতকাল রবিবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর জোড়াগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে পান্নুকে লাঞ্ছিত করার খবর পেয়ে খুলনার কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিক খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করেন। ফলে সড়কের দু’ প্রান্তে প্রায় আধা ঘণ্টা সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাংবাদিক রকিব উদ্দিন পান্নু বলেন, নগরীর জোড়াগেট এলাকায় ওয়াসার পাইপ লিকেজ হয়ে পানি বের হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মোবাইলফোনে তিনি ওই চিত্র ধারণ করছিলেন। এ সময় সেখানে কর্মরত খুলনা ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের চায়না প্রকৌশলী আকষ্মিকভাবে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এক পর্যায়ে ৭১ টিভির ক্যামেরাপার্সন আরিফুর রহমান সোহেল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করলে তারা ক্যামেরা ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল বাশার এসে তাকে উদ্ধার না করে উল্টো ওয়াসার পক্ষ থেকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তাকে জোর করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া ঘটনার সময় যায়যায়দিনের প্রতিনিধি আতিয়ার রহমান তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এদিকে খবর পেয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। খুলনা সিটি মেয়র এসময় দোষী পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও ওয়াসার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক পান্নু অজ্ঞাতনামা চার জনের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
