পোশাক কি গায়ের রং অনুযায়ী বাছা উচিত? উপরে গাঢ় রং পরলে তার সঙ্গে কম্বিনেশন কী হবে? কোন ঋতুতে কোন পোশাকটি পরা উচিত বা পোশাকের সঙ্গে অনুষঙ্গগুলো কোন রঙের হবে—সব মিলিয়ে ঝামেলার অভাব নেই। তাই এবার পোশাকের রঙের সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে কিছু পরামর্শ সাজিয়েছেন সাবেরা সুলতানা
সবাই মিলে কেনাকাটা করতে যাওয়া হয়েছে। গাঢ় সবুজ বা ঝকঝকে গোলাপি জামাটার দিকেই নজর পড়ল মেয়েটির। অমনি মায়ের শাসন, ‘তোমাকে ও রং মোটেও মানাবে না। হালকা কোনো রঙের জামা বেছে নাও।’ অথচ বড়ো বোন দিব্যি কিনে নিল ঐ রঙের জামা। তার নাকের সামনে দিয়েই তার পছন্দের জামার প্যাকেটটি ঝুলিয়ে চলল। অভিমানে ঠোঁট ফোলানো হলেও লাভ কী! গায়ের রং চাপা বলে তার জামাকাপড় কেনার এই বাছবিচার তো আরো আগে থেকেই চলছে। এ রকম ঝামেলায় আমাদের প্রায়ই পড়তে হয়। গায়ের রঙের সঙ্গে মিল রেখে পোশাক নির্বাচন করাটা হয়ে পড়ে দুরূহ ব্যাপার, তবে কিছু ট্রিকস আছে জেনে নিন, যা আপনাকে দেবে কাঙ্ক্ষিত লুক।
চাপা রঙের
চাপা রঙের মেয়েদের ফ্যাশন, সাজসজ্জা অন্য রকম কিছু হবে, এটা ভাবাই যায় না। সব রঙই পরতে পারে তারা। তবে কোন রঙটা কীভাবে পরতে হবে, সেটা তাদের শিখে নিতে হবে। উজ্জ্বল গোলাপি রঙও কালো গায়ের রঙে সুন্দর মানিয়ে যেতে পারে। আবার গোলাপি কামিজের সঙ্গে সালোয়ার হতে পারে সাদা বা অন্য কোনো হালকা রঙের। ওড়না যদি রঙচঙে হয়, জামাটা হালকা রঙের হতে পারে। এভাবে নিজের মতো করে মিলিয়ে নিতে হবে। যেকোনো রঙই বুঝে পরা যেতে পারে। তবে খুব শকিং কোনো রং ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
খুব ফর্সা
খুব ফর্সা মানে একেবারে সাদা রঙের মতো যাদের ত্বকের বর্ণ, ফ্যাকাসে রঙের পোশাক থেকে তাদের সব সময় দূরে থাকা উচিত। এর বাইরে গোলাপি, নীল, খয়েরি ইত্যাদি যেকোনো উজ্জ্বল রং চলতে পারে।
ফর্সা
এমন গায়ের রঙে যেকোনো রঙই মানাবে, বিশেষ করে উজ্জ্বল রং কিংবা গাঢ়, কিন্তু ফ্যাকাসে থেকে এড়িয়ে চলতে হবে।
হলদেটে ফর্সা
সাদা পরলে সবচেয়ে সুন্দর লাগবে। এছাড়াও হালকা গোলাপি, নীল, সবুজের মতো রঙও ভালো খোলে, কালো পরলেও সোফস্টিকেটেড লাগে।
তামাটে
রোদে পোড়া তামাটে যাদের গায়ের রং তাদের পোশাক নিয়ে বাছ-বিচারের কোনো দরকার নেই। ট্রপিক্যাল কালার যেমন—হলুদ, সবুজ, নীল, কমলা ইত্যাদি রঙে খুব উজ্জ্বল লাগে। আবার সাদা বা বেবি পিঙ্কের মতো রঙও এমন স্কিন টোনে দারুণ মানায়।
ব্রাউন
ডাসকি বিউটিদের জন্য পার্পল ও অরেঞ্জ হলো আইডিয়াল কালার তবে ব্ল্যাক কোনোভাবেই পরা যাবে না।
ঋতুভেদে পোশাক নির্বাচন
বাতাসে শিমুল-পলাশের সৌরভ। সকালের শুরুতে নরম রোদে ঝিরঝিরে বাতাস। আবার হয়তো অঝোর বৃষ্টি—এই হলো আমাদের দেশের ঋতুবৈচিত্র্য। গরম বলে সিল্ক বাদ, ঠান্ডায় জর্জেট তোলা বা গরমে কালোটা না পরাই ভালো ছিল, শীত এসে গেছে এবার একটু সাদা শুভ্র হওয়া যাক ইত্যাদি নানা ঝামেলা ঋতুভেদে পোশাক বাছাই করতে গিয়ে হয়। তাই এবার আপনাদের জন্য ঋতুভেদে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু টিপস।
গরমে
কাঠফাটা গরমে প্যাস্টেল বা সফট নিউট্রাল কালার ঠান্ডা ঠান্ডা ইফেক্ট আনবে, তাই গোলাপি, হালকা নীল, খয়েরি, ল্যাভেন্ডার, অ্যাকোয়া ইত্যাদি রঙই বেস্ট অপশন। এই সিজনে কালো কিংবা কমলা কোনোভাবেই না।
শরতে
শরত্ মানে উত্সবের সিজন। আর তাই উত্সবের রং মাখাতে শরতের রঙও সোনালি। ক্যামেল, বেজ, অরেঞ্জ, সোনালি, ডার্ক ব্রাউন বেছে নিতে পারেন। তবে ব্লু টোন আছে এমন রং না পরাই ভালো ।
শীতে
আলমারিতে যত কটকটে রঙের জামা আছে, সব বের করে ফেলুন। ব্ল্যাক, নেভি ব্লু, রেড, শকিং পিঙ্ক গায়ের রঙের সঙ্গে মানিয়ে যায়। এ সময় যেকোনো রঙই পরা যেতে পারে। হালকা রঙের মধ্যে আইসি টোনের বদলে প্যাস্টেল কালার বাছুন। তবে এই সময় গোল্ডেন, বেজ বা অরেঞ্জর মতো রং এড়িয়ে চলা ভালো।
বসন্তে
ক্যামেল, পিচ, গোল্ডেন ইয়ালো, গোল্ডেন ব্রাউন মতো ওয়ার্ম কালার এই মৌসুমের রং। এ সময় যেকোনো ডাল বা ডার্ক কালার পুরোপুরি বাদ।
মডেল বিবা, নাফিসা ও ইফতি
মেকআপ মিউনী’স ব্রাইডাল
পোশাক কারু বুটিক
ছবি ফারুক আবু
