মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঠ থেকে আমন ধান ওঠার পরপরই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। আর মাটি ট্রাক ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন কৃষক বলেন, এখন ইটভাটায় মাটির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফসলি জমির মাটি বেচাকেনা হচ্ছে দেদার। তারা এসব ক্ষতির বিষয়টি জানেন না বলেই মাটি বিক্রি করছেন।
কৃষকরা জানান, ‘অভাবের কারণে তারা এক বিঘা জমির মাটি ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। ভাটার লোকজন এসে জমির উপরিভাগ থেকে দুই ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিচ্ছে।’
পাতিবিলা গ্রামের একজন কৃষক জানান, তার জমির উপরিভাগের দুই ফুট মাটি র্যাডো ইটভাটায় ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
মাটি বেচাকেনার সিন্ডিকেটরা জানায়, ইটভাটায় ইট তৈরির জন্য প্রচুর মাটির প্রয়োজন। এ জন্য বর্তমানে মাটির চাহিদা বেড়ে গেছে। এছাড়া নতুন নতুন ঘরবাড়ি উঠছে। এ ঘরবাড়ি তৈরিতে মানুষ ভিটে করার জন্য মাটি ব্যবহার করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকার বলেন, ‘ফসলি জমির মাটি বিক্রির বিষয়টি এখন চরম উদ্বেগের পর্যায়ে চলে গেছে। অচিরেই এটা রোধ করা দরকার। তা না হলে এ উপজেলায় ফসল উত্পাদনে মারাত্মক ধস নামবে। এজন্য কৃষক পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, ‘জমির উর্বরতা শক্তি উপরিভাগ থেকে ১৫-২০ ইঞ্চির মধ্যে থাকে। তাই ওপর থেকে মাটি সরিয়ে ফেলায় উর্বরতা শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় সেই জমির ওপর বিভিন্ন পদার্থ জমে উর্বরা শক্তি ফিরে আসতে শুরু করে। এভাবে আগের মতো উর্বরা শক্তি ফিরে আসতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। মাটি বিক্রি করে সাময়িক অভাব দূর হলেও ক্ষতি হয় অনেক বেশি। আমরা কৃষক পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেব। তবে এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
