সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
এক বছর প্রিমিয়ার ফুটবলে খেলেই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন মানিক হোসেন মোল্লা। প্রিমিয়ার ফুটবলের গত মৌসুমে এই মানিক আরামবাগে খেলেছেন। মারুফুল হক আরামবাগের কোচ থাকাকালীন চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলা ফকিরেরপুল ইয়ংম্যান্স ক্লাব থেকে মানিককে তুলে এনেছিলেন। মারুফুল হক যখন শেখ কামাল ক্লাব কাপ ফুটবলে চট্টগ্রাম আবাহনীতে কোচের দায়িত্ব নিলেন তখন এই মানিকও সেখানে গেলেন মারুফুলের হাত ধরে। এইটুকুই হচ্ছে মিডফিল্ডার মানিকের ফুটবল ক্যারিয়ার। এই হিসেবে ঢাকার ফুটবলে তার সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ার। এক বছর প্রিমিয়ার লিগেই খেলেই মানিক এখন জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ২৩ ফুটবলারের একজন। গতকাল বিকালে যখন দল ঘোষণা করা হচ্ছিল তখন ঢাকায় ফিরছিলেন মানিক। ফোনে মানিক বললেন,‘চট্টগ্রাম আবাহনীর ম্যানেজার আরমান আজীজ ফোনে জানিয়েছেন আমি জাতীয় দলে ডাক পেয়েছি। আমার বাবা জিকির হোসেন মোল্লা এবং মা শাহানারা বিবি খুশি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে আমি সবার ছোটো।’
রাজশাহীর বাগমারা থানার মাধনগর ঠাঁকুরপাড়া গ্রামের ছেলে মানিক। নিজেই বললেন,‘ঢাকায় ইয়ংমেন্স ক্লাব দিয়ে ফুটবল খেলা শুরু করি। এরপর আরামবাগ হয়ে এবার চট্টগ্রাম আবাহনীতে যোগ দেই। প্রিমিয়ার লিগে এক বছর খেলেছি। এবার দ্বিতীয় বছর হবে আমার। এছাড়া আমি আর কোথায় ফুটবল খেলেনি। এমনকি তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগেও ফুটবল খেলেনি।’ তাহলে ঢাকায় আসা কীভাবে ? ঢাকার আরেক সাবেক ফুটবলার শামীম, যিনি মোহামেডান আবাহনীতেও খেলেছেন। মানিক বললেন, আমি শামীম ভাইয়ের হাত ধরে ঢাকায় এসেছি। আর রাজশাহী ফুটবল একাডেমি ট্রেনিং সেন্টারে অনুশীলন করতাম, শামীম ভাই আমাকে ওখান থেকে ঢাকায় আনে।’
হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলবেন মানিক। অথচ এই পজিশনে অধিনায়ক জামাল ভুইয়া, সোহেল রানা, সাদ উদ্দিন, মামুনুল ইসলাম, রবিউল হাসান রয়েছেন। তাদের টপকে নতুন মুখ মানিক হোসেন মোল্লা জায়গা নিতে পারবেন কি না—এমন কথায় মনিক বললেন, ‘আমি চেষ্টা করব। যেভাবে তাদের ভিড়ে সুযোগ পেয়েছি আমি সেভাবেই নিজের পরিশ্রম দিয়ে জায়গা করতে চেষ্টা করব।’
জাতীয় দলে ডাক পাননি ওমানের বিপক্ষে দলে থাকা স্ট্রাইকার সবুজ আরাফাত এবং বিপলু আহমেদ। প্রথম দুজনের পারফরম্যান্স ভালো নয়। বিপলু ইনজুরিতে রয়েছেন। গোলকিপার সোহেলের মারাত্মক ভুলের কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে ফেডকাপ থেকে বিদায় নেয় আবাহনী। তারপরও জাতীয় দলে আছেন তিনি। ভূরি ভূরি গোল মিস করেও আছেন স্ট্রাইকার জীবন। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন সুশান্ত, তপু বর্মন। জাতীয় দলের সহকারী কোচ ইংলিশ স্টুয়ার্ট ওয়ার্টসকিস বলেন, ‘তপু আগেও জাতীয় দলে খেলেছেন। ইনজুরি কাটিয়ে এবার ফেডারেশন কাপে ভালো খেলেছে। তপু ফেরায় আমাদের রক্ষণভাগ শক্তিশালী হবে।’ আজ রিপোর্টিং করে আগামীকাল হতে অনুশীলনে নামবে জাতীয় দল। ইংলিশ কোচ জেমি ডে আগামীকাল ঢাকায় ফিরবেন। ছয় দেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে।
চূড়ান্ত দলে ডাক পাওয়া
২৩ ফুটবলার
গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, তপু বর্মন, ইয়াসিন খান, সুশান্ত ত্রিপুরা, রবিউল হাসান, সুফিল, বিশ্বনাথ ঘোষ, মতিন মিয়া, ইব্রাহিম (বসুন্ধরা কিং)। গোলকিপার সোহেল, রায়হান হাসান, টুটুল হোসেন বাদশা, সাদ উদ্দিন, মামুনুল ইসলাম, সোহেল রানা, নাবীব নেওয়াজ জীবন (আবাহনী)। জামাল ভুইয়া, রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান, আরিফুর রহমান (সাইফ স্পোর্টিং)। গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা (শেখ রাসেল)। মানিক হোসেন মোল্লা, রাকিব হোসেন (চট্টগ্রাম আবাহনী)।
