ঢাবি শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় মানববন্ধনে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গত বছর ১৭০০ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শতকরা ৪০ ভাগের বয়স ১২ বছরের নিচে এবং ৩ থেকে ৬০ বছরের কন্যা ও নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলেছে কিন্তু ন্যায়বিচার হচ্ছে না। নারীর ওপর এ ধরনের ঘটনায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে তারা ধর্ষণের মামলার দ্রুত বিচার আইন করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। এই ব্যাধি দুর্নীতি ও বিচারহীনতার ওপর ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বললে বিচার হয়, না বললে বিচার হয় না। আমরা এ রাজনীতি থেকে মুক্ত হতে চাই এবং ধর্ষণের বিচার চাই। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও নারী নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার দাবি জানান। তিনি সব ছাত্র সংগঠন ও ছাত্র সমাজকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এবং বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইখ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, গত বছর ১৭০০ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শতকরা ৪০ ভাগের বয়স ১২ বছরের নিচে এবং ৩ থেকে ৬০ বছরের কন্যা ও নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলেছে কিন্তু আমরা ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। তিনি ধর্ষণের মামলার দ্রুত বিচার আইন করার আহ্বান জানান। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে ধর্ষককে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান ।
সংগঠনের সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী ঘটনার দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, আমরা দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে ধর্ষণের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছি কিন্তু আজও ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করতে পারছি না। ধর্ষণ নারীকে অবদমিত করার প্রধান অস্ত্র। আরো বক্তব্য রাখেন পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস, পরিচালক লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লবি মাকসুদা আক্তার লাইলী, পরিচালক অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লবি জনা গোস্বামী।
