প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দুই বছর আগে (২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করেন। কিন্তু এখনো জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াই শুরু করতে পারেনি রামেবি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ তো চোখেই পড়ছে না।
অভিযোগ উঠেছে, যথাসময়ে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রণয়নে ব্যর্থতাসহ রামেবি ভিসির ‘একলা চলো নীতি’ ও বিভিন্ন ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প রামেবি বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও চিকিৎসক নেতৃবৃন্দসহ জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, রামেবি ভিসির বিরুদ্ধে জামায়াত-বিএনপি তোষণ, নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ ও হিসাব পরিচালকসহ ঢাকায় অফিস করা, আইন বহির্ভূত চুক্তিভিত্তিক ও এডহক নিয়োগ অব্যাহত রাখা, অবৈধভাবে নার্সিং ও মেডিক্যাল টেকনোলজির প্রশ্নপত্র সেটার-মডারেটর এবং তিনটি নার্সিং কলেজের আসন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ভিসির অপসারণ এবং ‘স্বতন্ত্র প্রকল্প পরিচালক’ চেয়ে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ’ চারমাস ধরে আন্দোলন করছে।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৬’ ১২ মে ২০১৬ জাতীয় সংসদে পাশ হয়। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মাসুম হাবিব ১০ এপ্রিল ২০১৭ ভিসি পদে নিয়োগ পান; ৩০ এপ্রিল যোগদান করেন। রামেবির জন্য নগরীর বড়বনগ্রাম মৌজায় প্রায় ৮৬ একর জমি পছন্দ করে দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা বজলার রহমানের আন্তরিকতায় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যায়।
স্বাচিপ রাজশাহী শাখার সভাপতি ডা. চিন্ময় কান্তি দাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলেও রামেবি ভিসি ডিপিপি প্রণয়নে করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে প্রায় দুই বছর অতিবাহিত করেন। ফলে এখনো ডিপিপি পাশ এবং অর্থ বরাদ্দও হয়নি। এক্ষেত্রে ভিসির ব্যর্থতা স্পষ্ট। এটা মেনে নেওয়ার মত নয়।’
আরও পড়ুন: ছেলে হত্যার বিচার দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন
জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, জমির ‘শ্রেণি’ জটিলতার কারণে আগের পছন্দের জমি অধিগ্রহণ করা যাচ্ছে না। নতুন জমি পছন্দ করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। গতবছর ১৬ নভেম্বর স্বাস্থ্যসচিব এবং গত ৪ জানুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী রামেবির জমি দেখতে রাজশাহী সফর করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিমান থেকে নেমেই আগের পছন্দের বড়বনগ্রামের জমিসহ নতুন দু’টি মৌজার জমি দেখেছেন। এসময় তিনি, রামেবি ভিসি ও স্বাস্থ্য সচিবসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে রামেবির জন্য নতুন জমি দেখানোয় বিব্রত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলেই প্রতিবাদ করেন। পরে সার্কিট হাউজে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘ভিসির ব্যর্থতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়’ বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। এ নিয়ে কেন্দ্রে ও সরকারে রাজশাহীর প্রতি ভুলবার্তা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বড়বনগ্রামে কোনো ফসলি জমি নাই। সেখানকার অধিকাংশই জমিই খাস। সেখানে রামেবি হলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা। নতুন যে ফসলি জমি দেখা হচ্ছে, সেগুলো অধিগ্রহণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বড়বনগ্রামের জমিই শ্রেয় মন্তব্য করে তিনি নতুন জমি পছন্দের নামে অর্থ ও সময় ক্ষেপণের বিরোধিতা করেন।’
অন্যদিকে রামেবি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘রামেবির ভিসি একজন অযোগ্য লোক। ডিপিপি প্রণয়নেই দুইবছর সময় নেওয়ায় নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তাকে দিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হবে না।’
এ বিষয়ে মতামতের জন্য ঢাকায় থাকা রামেবি ভিসি অধ্যাপক ডা. মাসুস হাবিবের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইত্তেফাক/এএএম
