তানভীর আহমেদ রাসেল
বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে শীতকালীন অবকাশ। ক্লাস, পরীক্ষা, এসাইনমেন্ট, প্রেজেনটেশন প্যারা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাই অজানাকে জানতে ও আনন্দের জোয়ারে গা ভাসিয়ে নিজেদের ফুরফুরে করে নিতে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ নাঙ্গলকোটের (কুসান) শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ফলে সংগঠনটি আয়োজন করল বার্ষিক শিক্ষাসফর। ভেন্যু নির্ধারণ হলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চা-বাগান আর ছোটো-বড়ো পাহাড়-পর্বতের নগরী শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পর্যটন বহুল ভূ-প্রকৃতির কোলঘেঁষে মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত। নির্ধারিত দিনে রাত ১২টায় উদয়ন এক্সপ্রেস আসার কথা থাকলেও সিডিউল বিপর্যয়ের কারণ ট্রেন পৌঁছায় রাত ৩টায়। কনকনে শীতের রাতে খানিকটা কষ্ট হলেও সকালে শ্রীমঙ্গলের শ্রী চোখে দেখামাত্রই সবার মধ্যে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হলো। নাস্তা শেষে চান্দের গাড়িতে করে আমরা বের হলাম আনারস-বাগানের উদ্দ্যেশ্যে। পথিমধ্যে দিগন্ত জুড়ে সবুজের গালিচা আর নয়নাভিরাম দৃশ্য যেন মুহূর্তেই দূর করে দিল সকলের ভ্রমণক্লান্তি। ু
এরপর আমরা রওনা হলাম শ্রীমঙ্গলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন পাহাড়-টিলাঘেরা সবুজ চা-বাগানের উদ্দেশ্যে। সবুজ গালিচার মতো বিস্তৃত মনমাতানো সারিবাঁধা ছোটো ছোটো চা-গাছের সমাহার অভিভূত করে সকলকে। কৃষ্ণবর্ণের চা-কন্যাদের পিঠে বিশেষ ধরনের ঝুড়ি বহন করে চা সংগ্রহের ব্যস্ত কর্ম তত্পরতার দৃশ্যগুলো অন্যরকম অনুভূতি যোগ করেছে। এরপর আমরা রওনা হলাম রাবার বাগানের উদ্দেশ্যে। দীর্ঘলাইন জুড়ে সুউচ্চ রাবার গাছের চিত্র চোখ জুড়ায় সকলের। পরপরই আমরা রওনা হলাম মাধবপুর লেকের উদ্দ্যেশ্যে। প্রায় ৫০ একরের লেকটির স্বচ্ছ জলরাশির বুকে ফুটন্ত নীলপদ্ম, দুই পাশের সুউচ্চ টিলার ওপর ছোটো ছোটো চা-গাছের সবুজ সমারোহ বিমোহিত করে উপস্থিত সকলকে।
অবশেষে আমরা চলে গেলাম লাউয়াছড়া উদ্যানে। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের উঁচু-নিচু ছোটো ছোটো টিলায় বেড়ে ওঠা অসংখ্য বৃক্ষে আচ্ছাদিত পুরো উদ্যানটি। নানান বিরল প্রজাতিসহ প্রায় ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষরাজির উদ্যানটিতে। আমরা আবিষ্কার করলাম নানান নাদেখা প্রজাতির বৃক্ষরাজি। সারা দিনের বিরামহীন চমত্কার ট্যুর শেষে রাত ১২টায় আমরা ফিরে আসলাম কুমিল্লায়।
শ্রীমঙ্গল ট্যুরের সার্বিক অভিজ্ঞতা থেকে কুসানের সদস্য অন্তর, মাহিন ও হূদয় বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র মিলে ট্যুরে সবাই একসঙ্গে গান, হৈ-হুল্লোড়ে ব্যস্ত থাকা, ট্রেনজার্নি, চাঁদের গাড়ি এবং বাস এক ট্যুরে ভিন্ন-ভিন্ন যানবাহনের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে কুসানের ট্যুরটি আমাদের স্মৃতির পাতায় যুক্ত করেছে এক নতুন মাত্রা।
