বীরাঙ্গনা ববিজানসহ পাঁচ সফল নারী পেলেন সংবর্ধনা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৪

  মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল

 

দরিদ্রতার সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন নির্বাহ, নিজ পরিবার, সমাজ, নারী উন্নয়ন ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় একজন নির্যাতিত নারী বীরাঙ্গনাসহ পাঁচ সফল নারীকে এ বছর সরকারিভাবে উপজেলা প্রশাসন জয়িতা ঘোষণা করে পুরস্কার প্রদান করেছেন। তাদের দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই পাঁচ নারী জয়িতার বাড়ি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পাঁচ নারী জয়িতাকে প্রশাসন থেকে সরকারিভাবে সংবর্ধনাসহ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে বলে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক এবং উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মিসেস মিনু পারভীন জানিয়েছেন।

নারী জাগরণের অগ্রপথিক বেগম রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাঁচ নারী জয়িতা হলেন— অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ও তরফপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক মিয়ার স্ত্রী পারুল বেগম, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ও মির্জাপুর সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষক বাওয়ার কুমারজানি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক  দুর্লভ বিশ্বাসের স্ত্রী এবং মির্জাপুর এস কে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলো রানী বিশ্বাস, সফল জননী ও পুষ্টকামুরী গ্রামের মো. শামসুল আলমের স্ত্রী শিরীনা বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী ও বাঁশতৈল গ্রামের মো. ইয়াত আলীর স্ত্রী বীরাঙ্গনা ববিজান বেগম (বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত) এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী ও পাঁচচামারি গ্রামের মো. আব্দুস সালাম মিয়ার স্ত্রী ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সালমা সালাম ঊর্মি।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জানান, জয়িতাদের মধ্যে অসহায় পারুল বেগম অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করে নিজ পরিবার ও সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করে তুলেছেন। তিনি আজ সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত। শিক্ষাক্ষেত্রে আলো রানী বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছেন। তিনি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। শিক্ষকতার পাশাপাশি দুই কন্যাকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে সুপাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। তার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস সমাজ উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যিনি সম্ভ্রম হারিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন তিনি হলেন বীরাঙ্গনা ববিজান বেগম। দেশের জন্য তার বীরত্বগাথা অবদান দীর্ঘ ৪৮ বছর চাপা পড়েছিল। পরিবারের অভাব-অনটন ও লোকলজ্জার কারণে তিনি সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে উঠে আসা এই নারীকে অবশেষে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। সেই সঙ্গে জয়িতার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসনও বীরাঙ্গনা ববিজান বেগমকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। সফল জননীর ভূমিকা পালন করেছেন শিরীনা বেগম। অভাব-অনটনের স্বামীর সংসারে নানা চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে তিনি দুই কন্যাকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে বিদেশে পাঠিয়েছেন। সমাজ ও নারী উন্নয়নে যিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি হলেন বেগম সালমা সালাম ঊর্মি। দুই কন্যাকে তিনি মানুষের মতো মানুষ করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।