বিশাল জয়ে সিরিজে সমতা

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৪

হিমেল বাতাস রুখতে পারেনি ক্রিকেট পাগল দর্শকদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজও রুখতে পারেনি বাংলাদেশকে।

দুপুর গড়াতে না গড়াতেই মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে উপচে পড়া ভিড়। রাত নামতেই ফ্লাড লাইটের আলো আর কুয়াশার তৈরি হওয়া রহস্যময় পরিবেশ আরও রহস্যময় করে তুললো হাজারো দর্শকের মোবাইলের আলো। আর এই পরিবেশকেই বিজয়ের মঞ্চ বানিয়ে ফেললো বাংলাদেশ।

সাকিব আল হাসানের অতিমানবীয় অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহদের ব্যাটিংয়ে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৬ রানে হারালো বাংলাদেশ। সাকিব ব্যাট হাতে অপরাজিত ৪২ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ২১ রানে নেন ৫ উইকেট। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচের এই জয়ে ১-১ সমতায় ফিরলো এখন সিরিজ। শনিবার এই মিরপুরেই নিষ্পত্তি হবে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের।

আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১১ রানের বিশাল স্কোর গড়েছিল। এটা ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের স্কোর। সর্বোচ্চ ২১৫ রান করেছিল বাংলাদেশ এ বছর মার্চ মাসে; শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। গতকালকের ২১১ রান আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান।

জবাব দিতে গিয়ে শুরুতেই এক ওপেনার এভিন লুইসের উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপরও ভীতি ছড়িয়েছিলেন দারুণ ফর্মে থাকা শাই হোপ। ৩৬ রান করা হোপকে ফেরান মিরাজ। এরপর রভম্যান পাওয়েল বাকিদের নিয়ে মাঝে মাঝেই ম্যাচটাকে নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছিলেন। কিন্তু সাকিব ৪ ওভারে ৫টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন। ঠিক ৫০ রান করা পাওয়েলের উইকেট নেন মুস্তাফিজ।

বাংলাদেশকে বিশাল স্কোরের ভিত গড়ে দেন লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। তামিম তুলনামূলক নিষ্প্রভ থাকলেও লিটনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৪.১ ওভারে ৪২ রানের উদ্বোধনী জুটি পেয়ে যায় বাংলাদেশ। তামিম ১৬ বলে ১৫ রান করে ফ্যাবিয়েন অ্যালেনের বলে আউট হয়ে ফেরেন। এরপর শুরু হয় লিটন ও সৌম্য সরকারের জুটি।

ইনিংসের ভিত মজবুত করে দেয় এই জুটি। লিটন ও সৌম্য দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ রান যোগ করেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটাই তাদের প্রথম পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি। সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে এটা সৌম্য-লিটনের তৃতীয় পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি। সৌম্য এক প্রান্তে ঝড়ের গতিতে ৩২ রান করে ফেলেন। ২২ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ৩২ রান করে ফেরেন তিনি।

সৌম্য ফেরার ৩ রান পরই ফিরে আসেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের স্কোরার লিটন। ৩৪ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬০ রান করে ফেরেন লিটন। বাহারি শটের কারিকুরিতে একেবারে বিবশ করে রেখেছিলেন স্টেডিয়ামকে। লিটন ফেরার খানিক সময়ের মধ্যে ফিরে আসেন মাত্র ১ রান করা মুশফিকুর রহিম। এই সময় শঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, এতো সুন্দর ভিত্তিটা হয়তো কাজে লাগাতে পারবে না বাংলাদেশ। কিন্তু সে শঙ্কা দূর করে দেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ।

সাকিব ও রিয়াদ ৯১ রানের জুটি করেন ৩৬ বলে! দু জনে প্রতিযোগিতা করে রানরেট বাড়িয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সাকিব ২৬ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্য প্রান্তে রিয়াদ ২১ বলে ৭টি চারে সাজানো ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ২১১/৪ (লিটন ৬০, সাকিব ৪২*, মাহমুদউল্লাহ ৪৩*, সৌম্য ৩২, তামিম ১৫; কোট্রেল ২/৩৮, অ্যালেন ১/২৯, থমাস ১/৪৩)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯.২ ওভারে ১৭৫/১০ (পাওয়েল ৫০, হোপ ৩৬, পল ২৯; সাকিব ৫/২১, মুস্তাফিজ ২/৫০, মাহমুদউল্লাহ ১/১, মিরাজ ১/২৩, আবু হায়দার ১/৩৩)।

ফল: বাংলাদেশ ৩৬ রানে জয়ী।