পালাকাটা রাবার ড্যাম
সেচসুবিধা নিয়ে অনিশ্চিত হাজারো কৃষক
g এম এইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর রামপুরু-পালাকাটা পয়েন্টে নির্মিত রাবার ড্যামের তিন স্প্যানের মধ্যে এক স্প্যানের রাবারের নিম্নাংশে ফুটো (ছিদ্র) হয়ে পড়ায় নদীর মিঠাপানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। এতে উজান থেকে নেমে আসা মিঠা পানি অকার্যকর হয়ে পড়া স্প্যানের ওপর দিয়ে ভাটির দিকে নেমে যাচ্ছে। এই অবস্থায় মিঠাপানির সুবিধা নিয়ে পৌরসভা, চিরিঙ্গা, সাহারবিলসহ আশপাশের জমির চাষাবাদ নিয়ে বেশ আতঙ্কে ভুগছেন কয়েক হাজার চাষি।
জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো চলতি শুষ্ক মৌসুমে ধান, সবজিসহ রকমারি সবজির আবাদ নির্বিঘ্ন করতে সদ্য বিদায়ী বছরের ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত রামপুর-পালাকাটা পয়েন্টের রাবার ড্যামটির তিন স্প্যানের রাবার ফুলানো হয় পানিভর্তি করে। কিন্তু ২৪ ডিসেম্বর থেকে ঐ ড্যামের ৩ নম্বর স্প্যান দেবে যেতে থাকে। এই অবস্থায় পহেলা জানুয়ারি বুধবার ভোর থেকে মাতামুহুরী নদীর ধরে রাখা মিঠা পানি ভাটির দিকে নেমে যেতে থাকে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানিয়েছে, মাতামুহুরী সেচ প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর আওতায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে ড্যাম দুটির কাজ বাস্তবায়ন করেন। এতে এরপর থেকে নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করে আসছিলেন চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার লক্ষাধিক কৃষক। তবে মাঝেমধ্যে ড্যাম দুটিতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিলেও পরবর্তীতে রিপিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সচল করে আসছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত তিন বছর আগে রামপুর-পালাকাটার ড্যামটির রাবারের নিচে ছিদ্র হয়ে গেলে তা মেরামত করা হয়। সর্বশেষ চলতি শুষ্ক মৌসুমে এই ড্যামটির রাবার আবার ছিদ্র হয়ে গেলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসাইন বলেন, ‘রামপুর-পালাকাটা ড্যামটির এক স্প্যান অকার্যকর হওয়ার বিষয়টি জানার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অতিদ্রুত তারা এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’
জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. শাহ আরমান সালমান বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার পর গত সাতদিন আগে ড্যামটির রাবার ফুলানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপর ঠিকঠাক মতো চললেও হঠাত্ সামুদ্রিক জোয়ারের অস্বাভাবিক পানির ধাক্কায় ড্যামটির তিন নম্বর স্প্যানের রাবারের নিচের ছিদ্রগুলো বড়ো হয়ে যায়। এতে স্প্যানটি দেবে যায়। এই ড্যামটির দৈর্ঘ্য ১৮৬ দশমিক ৫০ মিটার ও প্রস্ত ৪৫ মিটার।’ তিনি বলেন, এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী ড্যামটি পরিদর্শন করেছেন। ড্যামের অকার্যকর স্প্যানের মেরামতে এরই মধ্যে ড্যামের দুই অংশে মাটির তৈরি ক্রসবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। তারপর পানি শুকিয়ে নিয়ে স্প্যানের মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হবে।
