বিবিসি
মেক্সিকোয় মাদকবিরোধী যুদ্ধে ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। নতুন এই হিসাব আগের করা পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দেশটিতে মূলত মাদকাসক্তি এবং এ কারণে একে নিয়ে ব্যবসা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে সংঘর্ষ কিংবা পূর্ব রেষারেষিতে প্রায় প্রতিদিনই বহু মানুষ মারা যাচ্ছে কিংবা গুম হচ্ছে। মাদকের এই ভয়াবহ অবস্থায় সরকার ২০০৬ সালে ব্যাপক অভিযানে নামে। তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ফেলিপ চালডেরন ঐ সময়ের শেষের দিকে ৬ হাজার সেনাসদস্যকে মিচোয়াচান রাজ্যে মোতায়েন করেন। সরকারি তথ্য অনুসারে, শুধু গত বছরে ৩১ হাজারেরও বেশি মানুষ খুন হয়েছে। এর পিছনের কারণ হিসেবে শক্তিশালী মাদকচক্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে এসব ঘটনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডকেও অনেকে দায়ী করছেন।
তাদের মতে, মাদকচক্রের পাশাপাশি সরকারি বাহিনীও এসব গুম কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। আর ৭৪ শতাংশ রয়েছে পুরুষ। সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত নিখোঁজের সংখ্যা ৬১ হাজার ৬৩৭। ১৯৬৪ সাল থেকে এর রেকর্ড শুরু হয়। তবে বেশিসংখ্যক মানুষ নিহত কিংবা নিখোঁজ হয়েছে ২০০৬ সালে। আর এর পরই প্রেসিডেন্ট ক্যালডেরন মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সামরিক বাহিনীও এর বিরুদ্ধে অভিযানে নামে।
২০১৮ সালে মেক্সিকোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডোর দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকবিরোধী যুদ্ধে নতুন কৌশল নেন। তার প্রশাসন মাদকচক্রের সঙ্গে ‘গুলি নয়, আলিঙ্গন’ নীতি গ্রহণ করে বৈষম্য ও দুর্নীতি মোকাবিলায় মনোনিবেশ করেন। তবে তার পরেও থামেনি মৃত্যুর মিছিল।
