জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চায় এলাকাবাসী

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০৫

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড-২৭

নিলয় মামুন

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড। ১৪টি পাড়া-মহল্লায় প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস। এই ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার। এখানে রয়েছে হোসনি দালান রোড, অরফানেজ রোড, কমল দাহ রোড, নাজিমুদ্দিন রোড, গিরদা উর্দু রোড, জয়নাগ রোড, বকশীবাজার রোড, বকশীবাজার লেন, আমালাপাড় সিট রোড, তাঁতখানা লেন, উমেশ দত্ত রোড, নবাব বাগিচা, নূর ফাতা লেন, পলাশী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ডিএসসিসির অঞ্চল-৩ এর আওতাধীন এই এলাকায় রয়েছে ব্যাপক জনদুর্ভোগ। এর মধ্যে বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য পরিকল্পিত ড্রেনেজ-ব্যবস্থা নেই। নেই কোনো খেলার মাঠ। এ ছাড়াও ওয়ার্ডটিতে নেই কমিউনিটি সেন্টার, ব্যায়ামাগার, পাঠাগারসহ নাগরিকদের বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা। ওয়ার্ডে স্থায়ী খেলার মাঠ, স্থায়ী কাঁচাবাজার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় সমস্যায় রয়েছেন বাসিন্দারা।

এছাড়া এলাকার সর্বত্রই নোংরা পরিবেশ থাকায় মশা-মাছির উপদ্রবও বেশি। বিভিন্ন গলিতে রয়েছে মাদকের প্রভাব। এ ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার অনেক পুরনো। কেন্দ্রীয় কারাগারকেন্দ্রিক মাদকের বিস্তার ঘটেছিল এ এলাকায়। পরে কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে সরে যাওয়ায় এখন মাদক কিছুটা কমলেও অনেকে পুরনো পেশায় রয়ে গেছে। এছাড়া এখানকার গুরুত্বপূর্ণ চানখাঁরপুল মোড়, নাজিম উদ্দিন রোড, বকশীবাজারসহ প্রধান সড়কগুলোতে সর্বত্রই তীব্র যানজট লেগে থাকে। এদিকে এই ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, মশক ও মাদক সমস্যা নিরসন, শিশুদের খেলার মাঠসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা যিনি নিশ্চিত করবেন তাকেই এলাকাবাসী ভোট দেবেন বলে জানান এই এলাকার বাসিন্দারা।

এবার এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর ড. ওমর বিন আজিজ। তিনি বলেন, আমি এর আগে নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। কিছু সম্পন্ন করেছি। এখনো কিছু বাকি রয়েছে। আমি কাউন্সিলরের দায়িত্ব পাওয়ার পর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেক কাজ করেছি। অল্প সময়ের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে। তার ওয়ার্ডে মাদকের আনাগোনা আছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, এখন এটি আগের তুলনায় অনেক কম। আবার নির্বাচিত হলে হাজী গোলাম মোরশেদ কমিউনিটি সেন্টারটিকে আধুনিকায়ন করে ব্যায়ামাগার, পাঠাগারসহ একটি অত্যাধুনিক ভবনে পরিণত করব। একটি স্মার্ট ওয়ার্ড গড়ার জন্য যা করা দরকার তাই করব।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক শাহিদা মোরশেদ। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এই এলাকায় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমার আসল কাজ। আমার প্রয়াত স্বামী হাজি গোলাম মোরশেদ এ ওয়ার্ডে ২৯ বছর কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি নির্বাচিত হলে তার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করব। স্থানীয় নাগরিকদের কল্যাণে যা করা প্রয়োজন, আমি তা-ই করব। এছাড়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, মাদক নির্মূল ও যানজট নিরসনে কার্যকরী ব্যবস্থা নেব।