সোলেইমানির দাফন অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে ৪০ জনের মৃত্যু

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত ইরানের জেনারেল কাসেম সোলেইমানির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। মানুষের ভিড়ে পদদলিত হয়ে ৪০ শোকাহত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রক্সি হামলার ওপর নির্ভর  না করে সামরিক বাহিনীকে সরাসরি হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট। এদিকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভিসা নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানের সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলার ঘোষণাকে সমর্থন করছে না তার প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টগনও। এই ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প দেশের মধ্যেই তোপের মুখে পড়েছেন। খবর বিবিসি, আল-জাজিরা ও ডেইলি মেইলের

ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, কাসেম সোলেইমানির দাফনে যোগ দিতে এবং তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার নিজ শহর কারমানে শোকের প্রতীক কালো কাপড় পড়া কয়েক লাখ মানুষ জড়ো হন।  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে শুক্রবার ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয় সোলেইমানিকে। দক্ষিণ পূর্বের শহর কারমানে গতকাল সন্ধ্যায় সোলেইমানিকে দাফন করার কথা ছিল। তবে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িক স্থগিত করা হয় দাফন অনুষ্ঠান। কর্মকর্তারা বলছেন, শোকাহত মানুষেরা সোলেইমানির কফিন স্পর্শ করতে চান। এর ফলে ভিড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ২১৩ জনের মতো আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এর আগে তেহরানে তার জানাজায় লাখো মানুষ সমবেত হয়েছিলেন।

তেহরানে কিভাবে শোক পালন হচ্ছে

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা যায়, সোমবার তেহরানে সোলেইমানির জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বলা হয়েছে, ১০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। যদিও এ সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জানাজার পর সোলেইমানির মরদেহ শিয়া ইসলামের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোমে নিয়ে যাওয়া হয়। কারমানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে সেখানে আরেকটি জনসমাগম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে

চলতি সপ্তাহের শেষে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছিল, জাভেদ জারিফ সোলেইমানির হত্যাকা্ল নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দেবেন। কিন্তু ভিসা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৪ সালে হওয়া এক চুক্তি লঙ্ঘন করছে, যেখানে বলা হয়েছে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যেকোনো বিদেশি কর্মকর্তা যোগ দিতে পারবেন।

ট্রাম্পের বিপক্ষে পেন্টাগনও

ইরানের হুঁশিয়ারির জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালাবে, আর তা হয়তো সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। তিনি ইরানের সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তেহরান যদি মার্কিন নাগরিক বা সম্পদে হামলা চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও দ্রুত ও কঠোর হামলা চালাবে। তবে তার এই বক্তব্যকে সমর্থন না করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলার কোনো পরিকল্পনা সেনাবাহিনীর নেই।

মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী আখ্যা

ইরানের পার্লামেন্টে গতকাল একটি বিল পাশ হয়েছে। এই বিলে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং পেন্টাগনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সোলেইমানির হত্যার প্রতিশোধ নিতে পার্লামেন্ট কুদস বাহিনীর জন্য ২২০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।