নারীবান্ধব ঢাকা শহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম আতিক। তিনি বলেছেন, নারীরা যেন ঢাকা শহরে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমার ইশতেহারে তা উল্লেখ থাকবে। ঢাকা শহরে যেখানে অন্ধকার আছে সেখানে আলোকিত করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ধর্ষণকারীকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। মঙ্গলবার সরকারি তিতুমীর কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, নির্বাচন কমিশন বারবার চাচ্ছে আমরা ওনাদের ওপর আস্থা রাখি। এটা হাস্যকর একটা ব্যাপার। কারণ দেশের জনগণ এবং অনেক সুশীল সমাজ এটা একযোগে বলছে যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর কারও কোনো আস্থা নেই। ওনাদের নিজেদের কথাতেই নিজেরা বিতর্কের সৃষ্টি করলেন। তারপরও কীভাবে আস্থা রাখব। গুলশানে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।
ছাত্রলীগের মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত মানুষরূপী পশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো বিকল্প নেই। নুসরাত হত্যার যেভাবে দ্রুত বিচার হয়েছে তেমনি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার হবে বলে আমরা আশা করি।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। এই ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করাসহ যথাযথ শাস্তির লক্ষ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রিপন মিয়ার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন, উপাধ্যক্ষ আবিদা সুলতানা, ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দেব নন্দী, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল হক জুয়েলসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা নেই-তাবিথ : বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, বিগত দিনে নির্বাচন কমিশন এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের সব অভিযোগ তারা আমলে নিচ্ছে না, এটা ঠিক না। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো ওনারা আমাদের অভিযোগ আমলে নেওয়ার পরও তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ইসির উপর কোনো আস্থা নেই।
তাবিথ বলেন, আমাদের তিন/চারটা ইস্যুতে কমিশন কোনো মন্তব্য করেনি। বিগত নির্বাচনগুলোতে ইভিএম নিয়ে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। ব্যাটারি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, মেশিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ম্যাগনেটিভ চিফ অফিসাররা বাসায় নিয়ে যেতে পারেন। এসব নানা রকম উদাহরণ অতীতে ছিল। এগুলো আমরা বানিয়ে বলছি না। একটি অভিযোগের বিষয়েও কমিশন পরিষ্কারভাবে বলছে না যে, সমস্যা কিছু ছিল। তাবিথ আউয়াল বলেন, ইলেকশন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার বলছি পুরো প্রক্রিয়ায় থাকব। ইলেকশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরে যাওয়ার মতো কোনো ইচ্ছা বা মন-মানসিকতা এবং অবস্থান আমাদের নেই। আমরা ভোটের অধিকার রক্ষা করার জন্য ইলেকশনে যাচ্ছি। এবার আমরা জেনেশুনেই যাচ্ছি যে, ভোট চুরি হবে। আমরা জেনেশুনেই যাচ্ছি যে, আমাদের ওপর নানা রকমের হামলা হবে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমাদের মামলা হবে, বা আরো বেড়ে যাবে। সবকিছু জেনেশুনে আমরা মানসিকভাবে আমাদের কর্মীদের তৈরি করছি।
তাবিথকে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের মতবিনিময় : এদিকে, সকালে নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে উত্তর সিটি নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন তাবিথ আউয়াল। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ।
