ফতুল্লায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:১২

ফতুল্লায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে ফ্ল্যাট বাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ফতুল্লার কায়েমপুর মুফতি নজরুল ইসলামের তিন তলা বাড়ির নিচ তলার ফ্ল্যাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন—শরীফ (৩২) ও তার স্ত্রী ফরিদা (২৬)। তারা ঐ বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। দগ্ধ ফরিদার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার কায়েমপুরের ঐ বাড়িটির নিচ তলায় কয়েকটি পরিবার ভাড়া থাকে। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এবং ছাদে টিনের ঘর তৈরি করে সেখানে জামিয়া দারুস সালাম নামে মাদ্রাসা দিয়েছেন বাড়ির মালিক মুফতি নজরুল ইসলাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে খোঁজখবর নিতে চাইলেও বাড়ির ম্যানেজার আবদুল ওহাব মিয়া কাউকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। পরে চিত্কার শুনে জোর করে লোকজন ভেতরে ঢুকে দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে গ্যাসলাইনের লিকেজ সম্পর্কে বাড়ির ম্যানেজারকে একাধিকবার জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ঐ বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়াদের।

এ বিষয়ে ম্যানেজার আবদুল ওহাব মিয়া জানান, সামান্য পুড়েছে। এটা নিয়ে স্থানীয় লোকজন হইচই করছে। আমি হাসপাতালে যাচ্ছি তাদের খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাব। এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের চুলার পাইপে লিকেজ থাকতে পারে। সেই লিকেজ থেকে সারা রাত গ্যাস বের হয়। ভোরে রান্না করার জন্য চুলা ধরাতে গেলে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় বাড়ির মালিকের কোনো গাফিলতি আছে কি না—খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাফিলতি পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।