সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিকেন্দ্রীকরণ সময়ের দাবি

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৭

বাংলাদেশে বলবত্ সাইবার ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের বিধান অনুসারে জেলা জজ পদমর্যাদার জজ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসাবে বিচার করেন। বর্তমানে দেশে একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। যার নাম ‘সাইবার ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ), ঢাকা’—অবস্থান মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকার ষষ্ঠ তলায়। ট্রাইব্যুনালের স্থানীয় অধিক্ষেত্র সমগ্র বাংলাদেশ। বিদ্যমান আইন দুটির অধীন দেশের কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বিচারিক হাকিমের আদালত অভিযোগ গ্রহণের পর বিচারের জন্য সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার নথি প্রেরণ করেন। স্থানীয় হাকিমের আদালত থেকে মামলার নথি ঢাকায় ট্রাইব্যুনালে আসতে অনেক সময় অতিবাহিত হয়, যা বিচারপ্রার্থীর জন্য কষ্টদায়ক। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সকল মামলা, তা হতে পারে জিআর থেকে অথবা মামলা গ্রহণকারী আদালত থেকে বিচারিক আদালতে ট্রান্সফার ডিজিটাল করা একান্ত আবশ্যক। সাইবার ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট পরিপালনে সরকারের আইন প্রয়োগে কঠোর নীতি, মানুষের অসর্তকতামূলক ফেসবুকের ব্যবহার, অপপ্রচার ও মোবাইলের অপব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে আইন দুটির অধীন দিন দিন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে বিচারপ্রার্থী অভিযোগকারী ও আসামি উভয়ের ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পাওয়ার জন্য ঢাকায় এসে আদালতপাড়ায় ধরনা দিতে হচ্ছে। বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে যেমন ঢাকার অধিবাসী আছেন তেমনি দূরের জেলা পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা, সিলেট, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রার্থীও থাকেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন, তেমনি হয়রানি হয়ে থাকেন। তাছাড়া মামলার সংখ্যা দিন দিন বাড়বেই। তাই বিচারপ্রার্থীদের দুর্দশা থেকে রক্ষা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বা বিভাগের মাঝামাঝি অবস্থিত জেলা শহরের জেলা জজ আদালতে একটি করে সাইবার ট্রাব্যুনাল স্থাপন করা সময়ের দাবি।

মো. আবদুুল মালেক

অ্যাডভোকেট, জজ কোর্ট, ঢাকা