নতুন বছরে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ। এটি একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশন। বিকাল ৪টায় শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনে সংবিধান অনুযায়ী ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সংসদ অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এরপর অধিবেশন শুরু হলে প্রধান হুইপ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনবেন। পরে সংসদ সদস্যরা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন।
প্রতিবারের মতো এবারও মন্ত্রিসভার ঠিক করে দেওয়া ভাষণের সংক্ষিপ্তসার পড়বেন রাষ্ট্রপতি। বছরের শুরুর এই অধিবেশন সাধারণত দীর্ঘ হয়। সাধারণত বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন এরকম ঘটলেও এবার কিছুটা ব্যতিক্রম হবে। সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তারা জানান, চলমান সংসদের কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে এরপরের সংসদের প্রথম বৈঠকে শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক মুলতবি হয়। গাইবান্ধার সংসদ সদস্য ইউনুস আলী সরকারের মৃত্যুতে অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ হবে। ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাংবিধানিক নিয়ম। তাই শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি হবে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি।’
এদিক আজ অধিবেশন শুরুর আগে বিকাল ৩টায় সংসদের কার্যক্রম ঠিক করতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে বসবে কার্য উপদেষ্টা কমিটি। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বৈঠকে অংশ নেবেন। রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের ‘উত্তর প্লাজা’ রাষ্ট্রপতির প্রবেশের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উত্তর প্লাজা ‘প্রেসিডেন্ট প্লাজা’ নামেও পরিচিত। রাষ্ট্রপতি চাইলে সিঁড়ি বেয়ে এই প্লাজা দিয়ে সংসদে প্রবেশ করবেন। ৬৫ হাজার বর্গফুটের এই জায়গা মূলত রাষ্ট্রপতির প্রবেশের জন্য তৈরি করা। ঐ সময় প্রায় ৫ বছর পর ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি এখান দিয়ে সংসদে ঢোকেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর আগে ২০০৯ সালের ২৫ জানুযারি এই জায়গা দিয়ে সংসদে ঢোকেন তত্কালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। ঐ দিন নবম সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনের জন্য এখন পর্যন্ত সাতটি বিল জমা রয়েছে। এর মধ্যে নতুন বিল হলো—বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল বিল, সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বিল, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানশিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহের তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান বিল’, বাংলাদেশ বাতিঘর বিল। বাকি তিনটি সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। সেগুলো হলো—কাস্টমস বিল, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিল, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) বিল।
