বিশ্ব ইজতেমা ২০২০

যুক্তরাষ্ট্র তাবলিগ জামাতের দাওয়াতী কার্যক্রম

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৩৭

যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ। কেবল অর্থনৈতিক বিচারে নয় বরং সামরিক শক্তি, শিক্ষা ও গবেষণা, মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার এক চমত্কার দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অভিবাসীবান্ধব দেশটিতে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের মানুষ জীবন-জীবিকা, শিক্ষা ও উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি দিয়ে থাকে। মুসলমানরা এর ব্যতিক্রম নয়। মোট জনংসংখ্যার ১ শতাংশ মুসলিম হলেও মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় কার্যক্রম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন। অভিবাসী, ধর্মান্তরিত এবং আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী মুসলমানদের মধ্যে অনেক চ্যারিটি সংগঠন তাদের দিনি তালিম তারবিয়তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব তাবলিগ জামাত তাদের মধ্যে অন্যতম। এদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রমের রয়েছে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। ঐতিহাসিক রেকর্ড থেকে জানা যায়, চৌদ্দ শতকের কোনো এক সময় দক্ষিণ আমেরিকায় মুসলমানদের আগমন ঘটে। মূলত সাদা আমেরিকানরা মুসলমানদের দাস হিসেবে প্রথম নিয়ে যায়। প্রথমে তাদের আগমন হয় টেক্সাসে। তাদের অধিকাংশই ধর্ম পালনের অধিকার পেতেন না। অধিকাংশই পরবর্তীতে ধর্মান্তকরণের শিকার হন। ১৫২৮ সালে মরোক্কান দাসদের আগমন ঘটে আমেরিকায়। তাদের ‘ইস্টাভেনাকে’ বলে ডাকা হতো। পরবর্তীতে যেভাবে অভিবাসীকে আমেরিকা স্বাগত জানিয়েছে, মুসলমানরাও এ সুযোগে বর্তমান আমেরিকার সমৃদ্ধিতে অনেক অবদান রেখেছেন এবং রেখে যাচ্ছেন। উনিশ শতকের ত্রিশের দশকে প্রথম মসজিদ প্রতিষ্ঠা পায়। আমেরিকায় বর্তমানে প্রায় ৫ মিলিয়ন মুসলমানের বাস। তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম হিসেবে মুসলমানরা স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মকর্ম পালন করছে। তবে কিছু হেট ক্রাই বা বিরোধিতা যে নেই তা নয়। কিন্তু প্রশাসন ও কমিউনিটি এ ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ। ধর্মীয় স্বাধীনতার দেশ হিসেবে পৃথিবীর সব মুসলিম জাতি গোষ্ঠী নিজেদের মতো মসজিদ, ইসলামিক সেন্টারসহ অনেক ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে।

তাবলিগ জামাত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দাওয়াতি সংগঠন যারা নিউ ইয়র্কের সুরম্য মসজিদ ‘মসজিদে আল-ফালাহ’ থেকে তাদের দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বারবার ডেইলি ম্যাটকাফে সম্পাদিত ম্যাকিং ‘মুসলিম স্পেস ইন নর্থ আমেরিকা অ্যান্ড ইউরোপ’ বইটি আমেরিকায় মুসলিম ও বিভিন্ন দাওয়াতি সংগঠনের কার্যক্রমের ওপর সামাজিক ও ঐতিহাসিক ধারায় লিখিত গবেষণালব্ধ চমত্কার বই। এ বই থেকে জানা যায়, ১৯৮০ সালে ডেটট্রয়েটে সর্বপ্রথম তাবলিগ জামাতের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৮ সালে শিকাগোতে তাবলিগ জামাতের ২য় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এ  ইজতেমায় প্রায় ৬০০০ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন। লেখকের ভাষায় আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম মুসলমানরা এতবড়ো সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। সম্মেলনটি তত্কালে দেশি-বিদেশি অনেক মিডিয়া চ্যানেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। (পৃ.১১৫) এ ধারা পরবর্তীতেও অব্যাহত থাকে। বলা যায় দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হয়। অবশ্য কারো কারো মতে, ষাটের দশকে আমেরিকায় প্রথম তাবলিগের কার্যক্রম শুরু হয়। পাকিস্তান থেকে প্রথম তাবলিগ গ্রুপ দাওয়াতি কাজে আমেরিকায় এসেছিল। পরবর্তীতে অবশ্য বাংলাদেশি মুরব্বি হাজী আবদুল মুকীতের নেতৃত্বে তাবলিগ কাফেলা আমেরিকায় আসে। তাদের দাওয়াতি কার্যক্রমে মুগ্ধ হয়ে অনেক আফ্রিকান আমেরিকান ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কুইন্স তাবলিগের মুরব্বি ও জামাইকা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস যুবায়ের আহমদ নদভী বলেন, পেনসেলভেনিয়া, আটলান্টা ও টেক্সাসে প্রতি বছর বড়ো আকারে তাবলিগ ইজতেমা হয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় প্রচুরসংখক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। এবারও মুরব্বি প্রফেসর আবদুল আউয়ালের নেতৃত্বে অনেকে অংশ নিচ্ছেন। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত মসজিদ আল-ফালাহ ও শিকাগোর মসজিদে নূর, সানফ্রানসিসকো রিচমন্ড মসজিদ থেকে আমেরিকার তাবলিগ জামাতের অনেক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাছাড়া আটলান্টা, টেক্সাস, ওয়াশিংটন ডিসি, মিয়ামী, লস এঞ্জেলেসসহ প্রায় সব স্টেটে তাবলিগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 [ চলবে ]

লেখক : ইন্টারফেইথ গবেষক ও অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়