ঢাকার দুই সিটির আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সরকারের ওপর কোনো ধরনের দোষ চাপাতে চায় না প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি-জাপা। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে দলটির কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধুকন্যা জানেন, মুক্তিযুদ্ধে কত রক্ত দিয়েছি। সেই দেশে আমাদের সরকারের ওপর যেন আর কোনো ব্লেম না আসে। সরকারের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। যাতে না ঘটে এর জন্য আমরা সব প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করব। এর ধারাবাহিকতায় কীভাবে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য করতে পারি, সেজন্য আমরা নির্বাচন কমিশনে এসেছি। আমাদের প্রার্থীর পক্ষে বিপক্ষে তো থাকবেই। চূড়ান্ত বিবেচনায়, এই মাত্র খবর পেলাম যে, আমরা নির্বাচনে থাকব। আমরা চেষ্টা করে যাব, নির্বাচনে আমরা থাকব।’
ঢাকা উত্তরে জাপার প্রার্থী মনোনয়নপত্রে বৈধতা না পেলেও ঢাকা দক্ষিণে পেয়েছে। তবে দলটির প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও তা থেকে সরে এসে নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জাপা প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ‘বেশ কিছু দিন ধরেই মহাজোটের সঙ্গে আমাদের বৈঠক চলছিল। অনেক আলোচনা হয়েছে। শেষপর্যন্ত আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। তাই আমরা নির্বাচনে থাকছি।’ এর আগে কলাবাগানে জাপার কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদের অফিসে জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, দক্ষিণ সিটির আওয়ামী লীগের নির্বাচন সমন্বয়কারী আমির হোসেন আমু ও মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে বৈঠক হয়।
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘গণতন্ত্রের শর্ত হলো শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা করা, শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করা। আলোচনার মধ্য দিয়েই একটা সমাধান বের করে নিয়ে আসা। এখানে নির্বাচনে আমরা থাকব, কিন্তু একে অন্যের সঙ্গে কথা বলব না, তা তো হতে পারে না। সে সরকারি দল হোক বা আরেকটি দল হোক কিংবা বহু দল হোক, সবার সঙ্গে একটা মর্যাদাপূর্ণ আলোচনা হওয়া উচিত। সেই আলোচনা থেকেই আমরা নির্বাচনে আছি।’
রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘কখনও কখনও আমরাও আহত হয়েছি ফলাফল নিয়ে। সব ক্ষেত্রেই যে বিজয় পেয়েছি, তা না। সবকিছু অর্জন করতে পেরেছি, পারিনি। ব্যথিত হূদয়ে তো কিছু কথা থাকতেই পারে। কিন্তু সেটা সরকারেরও শুনতে হবে। যারা হারবে তাদেরও সহনশীল হতে হবে। এমন কথা বলব না, যাতে জাতীয় জীবনে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করে।’
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে জাপা নেতা বলেন, ‘এটা একটা নতুন বিষয়। এটা বুঝতে সময় প্রয়োজন। এটা ব্যবহারের জন্য চর্চার প্রয়োজন আছে। সেই সময়টা আমরা পেলে হয়তো পরিপূর্ণ ব্যবহার আমরা অর্জন করতে পারব। সেজন্য আমাদের যাতে এই ইভিএম ব্যবহার নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। এটা অপব্যবহার হয়েছে, এতে সঠিক ভোটাধিকার প্রয়োগ হচ্ছে কি-না, সেদিকে আরো কঠিনভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। অবশ্য এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে।’
