দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলের চাষ করে ফুলচাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষ হচ্ছে। এসব ফুলের মধ্যে সবচাইতে জনপ্রিয় গাঁদা ফুল। গাঁদা ফুল চাষের ভালো দিক হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে খোলা মাঠে চাষের ক্ষেত্রে নানা ফুলের মধ্যে প্রথমেই অল্প পুঁজিতে আর চাহিদায় সেরা সারা বছরের ফুলের বাজার ধরতে গাঁদা ফুল অতুলনীয়। গৃহসজ্জা ও টবের ফুলেও সহজ চাষে এই ফুল এক নম্বরে। ফুলের মালা, অনুষ্ঠান, বাড়ি সাজানোতে, তোড়া, খুচরো ফুল হিসেবে পূজায়, বাড়ির বাগানে টবের অপরূপ শোভার পাশাপাশি বর্তমানে ভেষজ আবির তৈরিতে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। সময়ভেদে গাঁদা ফুল দুইভাবে বংশবিস্তার এবং চারা তৈরি করা হয়। বীজের মাধ্যমে এবং কাটিং পদ্ধতিতে চাষ করা হয়।
বীজ থেকে চারা তৈরি : শ্রাবণ-ভাদ্রমাসে চারা তৈরির বীজতলা তৈরি করা হয়। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ফুল ভালোভাবে শুকিয়ে বীজ সংগ্রহ করা হয়। গরমের সময় গাছগুলো বৃদ্ধি পেলেও ফুল না নিয়ে কাটিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। আবার চৈত্র থেকে আষাঢ়ে ফুল পাবার জন্য পৌষমাসে বীজ থেকে চারা তৈরি করা হয়। হাইব্রিড টবের বা সজ্জার গাঁদা ফুলের জন্য কার্তিকের শেষ থেকে অগ্রহায়ণ মাসে বীজতলায় বীজ বুনে ছোটো চারা করে ছোট্ট বাটির খুপরি/শিকড়ে মাটি লাগিয়ে বিক্রি করা যায়।
কাটিং থেকে চারা তৈরি : আষাঢ় মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত ফুল চাষে কাটিংয়ের চারাই জনপ্রিয় এবং সুবিধাজনক। কাটিংয়ের জন্য তৈরি ঝাঁঝালো গাছের ডগা তিন-চার ইঞ্চি ধারালো ব্লেডের সাহায্যে কেটে শিকড় বাড়ানোর হরমোন পাউডারের (অ্যারোডিক্স/রুকেট/সেরাডিক্স) ১ নম্বর/এ গ্রেড (নরম কাণ্ডের জন্য) কাটা অংশে লাগিয়ে মোটা ধোয়া বালির চালিটা বা কোনো স্থানে বসিয়ে দিলে দুই সপ্তাহেই শিকড় বেরিয়ে ঐ চারা আরো ৭/১০ দিন পর লাগানোর উপযুক্ত হয়। চারা লাগানোর মাস খানেক পরেই গাছে কুঁড়ি চলে আসলেও বাণিজ্যিকভিত্তিতে বেশি উত্পাদনের লক্ষ্যে প্রথম তিন/চার বার কুঁড়ি এবং ডগা কেটে ফেলে দিলে (পিনচিং করা) গাছে ডালপালা ঝাঁঝালো হয়ে প্রচুর ফুল দীর্ঘদিন ধরে তোলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পিনচিং চলার সঙ্গে মাস খানেক থেকে দেড়মাস পর্যন্ত প্রতি বিঘায় ২০ কেজি ১০ঃ২৬ঃ২৬ সুফলা দিয়ে নালা থেকে মাটি তুলে গোড়ায় ধরিয়ে দিলে চাপানোর সঙ্গে বাড়-বৃদ্ধি দ্রুত হয়। বাড়-বৃদ্ধি ভালো না হলে পানিতে গোলা সার প্রয়োগ করতে হবে। ফুল আসার পরও সার প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। গাঁদা ফুলের বাগানে খুব বেশি পানি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করতে ওষুধ স্প্রে করতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁদা ফুলের ব্যাপক চাষ হচ্ছে। এই ফুলের চাহিদাও ব্যাপক। এই ফুলের চাষ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে চাষিদেরকে আরো উত্সাহিত করতে হবে। তবেই চাষিরা গাঁদা ফুল চাষ করে আরো লাভবান হবেন।
