একাদশ সংসদ নির্বাচন
দিদারুল আলম
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তি হয়েছে। ঐ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। তবে সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ করে ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী ৮৩ পরাজিত প্রার্থী। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও হাইকোর্টের সাতটি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে কোনো প্রার্থীই মামলা শুনানির উদ্যোগ নেননি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলা দায়েরকারী বিএনপির পরাজিত প্রার্থীদের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ইত্তেফাককে বলেন, সংসদ নির্বাচন শেষে আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলাগুলো হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। কিন্তু এখতিয়ার সম্পন্ন উপযুক্ত আদালত না পাওয়ায় এসব মামলার শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম মামলার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজ উদ্যোগে অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ইসি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে শিগিগরই মামলাগুলোর শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৭টি আসনে জয় পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তাদের আসন সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ২৮৮টি। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় মাত্র আটটি আসন। পরে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ভোটের দাবি জানান তারা। এ অবস্থায় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টে বিএনপির পরাজিত ৭৮ প্রার্থী নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
এছাড়া গণফোরামের চার জন ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের একজন প্রার্থীও ভোটের ফল বাতিল চেয়ে মামলা করেন। সেই হিসেবে মামলার মোট সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৮৩টি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম, ঠিকানাসহ গেজেট জারির ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনী অনিয়মের বিষয়ে হাইকোর্টে এসব মামলা করা হয়। এসব মামলার আবেদনপত্রে ‘এক তরফা ভোট’ দেওয়া, ‘কারচুপি’, এজেন্ট ‘বের করে দেওয়া’, ও ‘জাল ভোট’ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ঐসব মামলা শুনানির জন্য ঐ বছরই হাইকোর্টের সাতটি একক বেঞ্চকে দায়িত্ব দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, মামলাগুলো এখনো শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়নি। উপযুক্ত বেঞ্চ গঠন হলেই শুনানির উদ্যোগ নেব। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। তবে এই সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, নির্দেশনামূলক। যারা মামলা করেছেন তারা যদি যথাযথ উদ্যোগ না নেন তাহলে শুনানি বিলম্বিত হবে।
