বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় গতকাল শুক্রবার সারাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোটো বোন শেখ রেহানা, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও আফজাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু প্রথমে লন্ডনে এবং পরে দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বদেশের প্রিয় মাটিতে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি এবার মুজিববর্ষ উদ্যাপনের অন্যন্য মাত্রা নিয়ে জাতির সামনে হাজির হয়। এ বছরের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী থেকে আগামী বছর ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করে বছরব্যাপী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে উদ্যাপন, তার ‘ক্ষণগণনা’ (কাউন্টডাউন) শুরু হয়েছে গতকাল থেকেই। বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রধানমন্ত্রী এবং জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা এই ‘ক্ষণগণনা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা মিছিল করে ৩২ নম্বর সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মোড়ে জমায়েত হতে থাকেন। সকাল ৭টার মধ্যেই সর্বস্তরের মানুষের ভিড়ে কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ৩২ নম্বর সড়ক ও আশপাশের এলাকা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এলাকা ত্যাগ করার পর সর্বস্তরের নারী-পুরুষ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। সকাল ১০টার মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুলে-ফুলে ভরে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন ত্যাগ করার পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক এবং সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, আওয়ামী স্বোচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতা ও কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ তাঁতী লীগ, জাতীয় ঘাটশ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, শেখ রাসেল শিশু সংঘ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন শ্রমিক-কর্মচারী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুব আইনজীবী পরিষদ প্রভৃতি সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানায়।
