বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় হামলা চালিয়েছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পালটা ধাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায়।
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় হামলা চালিয়েছে যুবলীগের একটি গ্রুপ। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে দুটি প্রাইভেট গাড়ি। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা ভাণ্ডারি মহল এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলার সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর ও অবমাননা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ জানান, সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া। বেলা ১১টার দিকে উপজেলা যুবলীগের একটি শোভাযাত্রা সভাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যুবলীগের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের সভায় হামলা চালায়। পুলিশ তাদের আটকাতে ব্যর্থ হয়। এসময় ছবি তুলতে গিয়ে আঃ মমিন গাজী নামে এক সাংবাদিক হামলার শিকার হন। উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন জানান, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের অনুষ্ঠানে বর্তমান এমপি সফিকুর রহমান, উপজেলা যুবলীগসহ কাউকেই দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তাছাড়া শোভাযাত্রা নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের মিছিলে ইট মারার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে।
শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পালটা ধাওয়ায় সভা পণ্ড
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবগঞ্জে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পালটা ধাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের উদ্বোধনী বক্তব্য শুরু হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকে। এতে সংসদ সদস্যের বক্তব্যে চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এসময়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের শান্ত হতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু তারা পুলিশের অনুরোধকে উপেক্ষা করে। শুরু হয় দুইগ্রুপের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ। ইটপাটকেল ও চেয়ার ছোড়াছুড়িতে উভয়পক্ষের ১৫-২০ জন আহত হয়। মঞ্চের সামনে থাকা শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে লাঠিচার্জ করে এবং পরে রাবার বুলেট ছুড়তে বাধ্য হয়। এ সময়ে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে নিয়ে যান।
