এমপিদের প্রচারের সুযোগ চায় আওয়ামী লীগ, সিইসির ‘না’

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২৮

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় এমপিদের সুযোগ চেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ দাবি এবং বিধির ব্যাখ্যা জানতে গতকাল শনিবার নির্বাচন ভবনে আওয়ামী লীগ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে দলটি বলছে, আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সংসদ সদস্য প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি-এমপিরা কিন্তু সুবিধাভোগী না। সুবিধাভোগী বলতে বোঝায় অফিস অফ প্রফিট। এমপিরা তা পায় না। তাই আচরণবিধির যে ব্যাখ্যা, এই ব্যাখ্যার মধ্যে স্ববিরোধিতা আছে। বৈঠক ফলপ্রসূ হলেও এমপিদের প্রচারণায় যাওয়ার সুযোগ নাকচ করে দিয়ে সিইসি বলেছেন, আইনানুযায়ী সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় এমপিদের অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

বেলা সাড়ে ১১টায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমদের নেতৃত্বে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, উত্তর সিটির মিডিয়া সেলের সদস্য জয়দেব নন্দী, মাহমুদ সালাহউদ্দীন চৌধুরী কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, ‘পথসভা, নির্বাচনি প্রচারে সংসদ সদস্যরা যাবেন না। এটা তারা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু আমরা নির্বাচনি অফিস, যেমন আমাকে শেখ সেলিম, হানিফ, মির্জা আজম সাহেবকে নির্বাচনি সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা অফিসে বসে পরিকল্পনা করতে পারি। এতে কোনো বাধা নাই। কর্মীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া যাবে। এতে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, এমপিরা নির্বাচনি প্রচার ছাড়া সব করতে পারবেন।

উত্তর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমন্বয়ক তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধিতে কিছু স্ববিরোধী বিষয় আছে। সংসদ সদস্যরা সরকারি সুবিধাভোগী নন। আবার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তারা মন্ত্রী ছিলেন। তারাও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইসি আচরণবিধি পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তারাও এখন এটা পরিবর্তন করতে বলেননি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, সংসদ সদস্যরা ঘরে, কার্যালয়ে বসেও নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলতে পারবেন না।

বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো সমন্বয় সংসদ সদস্যরা করতে পারবেন না। নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কাজ তারা ঘরোয়া বা বাইরে হোক, করতে পারবেন না। অবশ্য সিইসি এটাও বলেছেন, তবে ঘরে বসে কী করবেন, সেটা আমি কী করে বলব? সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমুকে নির্বাচনের সমন্বয়ক করা বৈধ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা তিনি বলতে পারছেন না।

সংসদ সদস্যরা সমন্বয়ক হিসেবে নির্বাচনের ক্যাম্পে বসে সমন্বয় করতে পারেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা পারেন না। ’

সিইসি বলেন, সংসদ সদস্যরা সবকিছুই করতে পারবেন। কেবল নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা, কোনো প্রচারণা এবং নির্বাচনি কার্যক্রম করতে পারবেন না।

প্রার্থীর সঙ্গে এমপিরা থাকতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘প্রার্থীর সঙ্গে এমপিরা থাকতে পারবেন কি না, আইনে এমন ডিটেইলস বাধানিষেধ নেই।