যেহেতু এটি পরিবেশ রক্ষার্থে একটি প্রয়াস তাই বন কাগজ মূলত তৈরি হয় পরিত্যক্ত কাগজ থেকে। মেশিনের মাধ্যমে প্রথমে কাগজগুলো টুকরো করে ৪২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। কাগজগুলো পুরোপুরি গলে গেলে সেগুলো থেকে মণ্ড তৈরি করে কাঙ্ক্ষিত ফ্রেমের আকারে বসিয়ে দিতে হয়। পরে বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে বীজগুলো কাগজে দিয়ে দিতে হয়। একজন কর্মীর পক্ষে ২ ঘণ্টায় ‘এ ফোর’ আকৃতির ৫টি বন কাগজ তৈরি করা সম্ভব। এভাবে একদিনে প্রায় ২৫-৩০টি কাগজ তৈরি করা যায়। বীজগুলো যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য কাজটি করতে হয় খুবই সর্তকতার সঙ্গে।
বন কাগজ তৈরির ব্যয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুমন জানান, বন কাগজের প্রকল্পটি নিয়ে এখনও কার্যক্রম চলমান। এই মুহূর্তে ব্যয় তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। একটি সাধারণ কাগজের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি ব্যয় হচ্ছে। প্রতি পিস কাগজ তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। তবে এই খরচ অর্ধেকে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান মাহবুব। আর অচিরেই খরচ কমিয়ে এটিকে সবার হাতের নাগালে নিয়ে আসতে পারবেন বলে তাদের বিশ্বাস। তবে শুধুমাত্র বন কাগজেই থমকে থাকেনি মাহবুব সুমন। পরিবেশকে প্লাস্টিক দূষণের কবল থেকে বাঁচাতে তিনি বাঁশ দিয়ে তৈরি করেছেন বাঁশের জগ ও মগ। উদ্ভাবন করেছেন পরিবেশ উপযোগী সার তৈরির যন্ত্রও। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাতাল’।
