যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য আবু সাঈদ মো. শাহাদাৎ হোসেনকে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ আটক করেছে। শুক্রবার সকালে ঝিকরগাছার পুরন্দরপুর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে।
গ্রেফতার আবু সাঈদ যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির। দলের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের নেতারা ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, 'জামায়াত প্রার্থী আবু সাঈদ মো. শাহাদাৎ হোসেন ওরফে মুহাদ্দিস আবু সাঈদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি নাশকতা মামলা রয়েছে। এর একটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিলেও পরে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। এ কারণে তার সেই জামিন বাতিল হয়ে গেছে।'
ঝিকরগাছা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, 'শুক্রবার সকালে আবু সাঈদ মো. শাহাদাৎ হোসেনকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পেন্ডিং নাশকতা মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে আবু সাঈদকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।'
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ঝিকরগাছা শহরের বাসভবনে একদল হেলমেটধারী দুর্বৃত্ত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা তার ব্যক্তিগত একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ছবি বৃহস্পতিবার রাতেই নিজের ফেইসবুক আইডিতে আপলোড করেছিলেন আবু সাঈদ।
আরও পড়ুনঃ 'ভোটের মাঠে যেতে নিষেধ করছে ক্ষমতাসীনরা'
আবু সাঈদকে আদালতে নেওয়ার পর তার ছেলে হাবিব কায়সার স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ঝিকরগাছা শহরের বাসভবনে একদল হেলমেটধারী দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা তার ব্যক্তিগত একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। শুধু তাই নয়, মাটশিয়া গ্রামে প্রচারণা চালানোর সময় তার পিতার ওপর হামলা করা হয়। এছাড়া প্রতিদিন পোস্টার ছেঁড়া, মাইক ভাংচুর, প্রচারণায় থাকা কর্মীদের ধরপাকড় করা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। এজন্য তারা নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করেন।'
ইত্তেফাক/নূহু
