স্পোর্টস রিপোর্টার
জাতীয় ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছেন। তার নোটবুকে কি আছে সেটা আগে থেকে জানার সুযোগ নেই। তবে এতটুকু ধারণা করা যায় কারা খেলবেন সেরা একাদশে তা নিয়ে কোচ কিছু একটা করছেন। স্ট্রাইকিং পজিশনে আবাহনীর নাবীব নেওয়াজ জীবন নেই। তিনি অসুস্থতার কারণে ক্যাম্প ছেড়েছেন। এই পজিশনে তরুণ স্ট্রাইকার ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অনুশীলনও করেছেন তিনি। এখন তার ভাবনা সেরা একাদশে সুযোগ করে নেওয়া। পাবেন কি পাবেন না সেটা নির্ভর করছে কোচের উপর। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বাংলাদেশ হয়ত কাউন্টার আক্রমণে খেলবে। সেই হিসেবে রক্ষণটাকে শক্ত বাঁধন দিয়ে আক্রমণে যাবে বাংলাদেশ। এই পজিশনে খেললে স্ট্রাইকার ফাহিম সুযোগ পাবেন কি না সেটা নিশ্চিত নয়। তবে তার জন্য দুয়ার খুলছে সেটা বুঝতে পারেন ফাহিম। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ফুটবল দলে খেলে নিজের ওপর আস্থা হয়েছে। এখন কোচের সবুজ সংকেত পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তার চোখে ফিলিস্তিন কোনো ব্যাপার না। দেশের জন্য ঝাঁপাতে হবে এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বয়সটা খুব বেশি না। রক্তে ফুটবলের নাচন। সাহস উপচে পড়ছে। দেশের মাটিতে খেলা তাই জীবনবাজি রেখে একটা সুযোগ নিতে চান এই তরুণ।
কয়েক বছর আগের কথা। ২০১৫ সালে সিলেটে বাফুফের একাডেমিতে ছিলেন ফাহিম। ২০১৬ সালে মক কাপ ফুটবলে খেলতে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে ফাহিম ৪ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন। হ্যাটট্রিক করেছেন। গোল্ডেন বুটও জয় করেছিলেন। তারপর থেকেই সিরাজগঞ্জের মাহমুদপুরের এই ফুটবলার বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি গায়ে নিজের জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এএফসি কাপ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে কাতারের বিপক্ষে গোল করে জয়ের নায়কও হন। অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ সব ক্ষেত্রেই ছিল ফাহিমের দখলদারিত্ব। তাই জাতীয় দলে এসেই বিদায় নিতে চান না। নিজের পারফরম্যান্স তুলে ধরার জন্য বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ তার কাছে দারুণ একটা সুযোগ করে দিয়েছে।
বাবা গোলাম ফারুক চাইতেন না ফাহিম ফুটবল খেলুক। মা ফুলিরা বেগমের চোখে ছেলের স্বপ্ন। দুরন্ত ছেলে ফুটবল খেলবে। দেশ জুড়ে নাম করবে। শেখ জামালের মাঠে ফাহিম বলেন, ‘আমার মা সবসময় আমাকে সাপোর্ট দিতেন। আমি যখন ভালো করলাম তখন আমার বাবাও খুশি হয়েছেন।’
