বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক
ব্রিটেনের রাজ পরিবারের ‘সিনিয়র’ সদস্যের খেতাব ছেড়ে দিচ্ছেন তারা, এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাদাম তুসোর ‘রাজপরিবার’ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় রাজকুমার হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগানের মোমের মূর্তি। সেই মূর্তি বসানো হবে সংগ্রহশালার অন্যত্র। মাদাম তুসোর এই সিদ্ধান্ত বলে দিচ্ছে, হ্যারি-মেগান সম্পর্কে এখন কী ভাবছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। কী ভাবছে গোটা দেশ।
সম্প্রতি মেগান ও হ্যারি তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঘোষণা করেন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য বা ‘সিনিয়র রয়্যালস’ এই খেতাব আর ব্যবহার করবেন না তারা। তবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। এই বিবৃতিতেই তারা জানান, এবার থেকে ব্রিটেন এবং উত্তর আমেরিকা (আমেরিকা ও কানাডা) দুই জায়গাতেই ভাগ ভাগ করে থাকবেন তারা তিন জন। মেগানের মা ডোরিয়া র্যাগল্যান্ড থাকেন কানাডায়। মেগানদের কথায়, ‘দুটি ভৌগোলিক অবস্থানে আমাদের ছেলে আর্চি বেড়ে উঠলে একই সঙ্গে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ঐতিহ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, এই দুটির সম্পর্কেই তার ধারণা জন্মাবে।’ তারা আরো জানান, রাজপরিবারের আর্থিক সুযোগসুবিধা ছেড়ে সাধারণ মানুষের মতো উপার্জনের চেষ্টা চালাবেন তারা। কীভাবে উপার্জন করবেন তা অবশ্য ব্যাখ্যা করেননি এই দম্পতি। এক সময়ের জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী মেগান ফের অভিনয় জগতে ফেরার কথা ভাবছেন কি না সেটা এখানো জানা যায়নি।
তবে মেগান হ্যারি স্বাধীন জীবনযাপনে আগ্রহী জানার পর ‘ব্যথিত’ হয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রানি বা বাবা যুবরাজ চার্লসের সঙ্গে আলোচনা না করেই যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হ্যারিরা। এই কারণে ‘হতাশ’ হয়েছে গোটা রাজপরিবার। হ্যারিদের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ঠিক দেড় ঘণ্টা পরে রানির পক্ষে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়, ‘ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স যে অন্য ভাবে জীবন কাটাতে চাইছেন, সে সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল। তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এটি একটি অত্যন্ত জটিল বিষয়।’
জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই রাজপরিবারের অন্যদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল হ্যারিদের। বিশেষ করে বাড়ির ‘নতুন বউ’ মেগান যেভাবে স্বাধীনচেতা ছিলেন সেটাকে অনেক আগে থেকেই হুমকি মনে করছিল রাজপরিবার। প্রথা ভেঙে বড়দিনের ছুটি কাটাতে তারা কানাডায় চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, রানির বড়দিনের শুভেচ্ছো-বার্তার ভিডিওতে যাদের ছবি দেখা গিয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন না মেগানরা। এ বিষয়েও রানি বিব্রত হয়েছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে হ্যারি জানান, দাদা উইলিয়ামের সঙ্গেও তার বিশেষ সুসম্পর্ক নেই। তা ছাড়া তার সম্পর্কে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের লাগাতার তির্যক মন্তব্য ও সমালোচনা নিয়ে খুবই বিচলিত ছিলেন মেগান।
ব্রিটিশ সিংহাসনের ষষ্ঠ দাবিদার হ্যারির এই সিদ্ধান্ত অনেককেই ৮৪ বছর আগে রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের সিংহাসন ছাড়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। দুবারের বিবাহবিচ্ছিন্না মার্কিন নাগরিক ওয়্যালিস সিম্পসনকে বিয়ে করার জন্য ১৯৩৬ সালে সিংহাসন ত্যাগ করেন রানি ভিক্টোরিয়ার প্রপৌত্র। রাজা হন বর্তমান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা ষষ্ঠ জর্জ। মেগানও মার্কিন নাগরিক এবং ডিভোর্সি। তবে রাজপরিবার ছাড়ার ফলে হ্যারি আর সিংহাসনের দাবিদার থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
