নতুন ওয়ার্ডটির উন্নয়ন চান ভোটাররা

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৬

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড-৪১

নিলয় মামুন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড পূর্বে ছিল সাতারকুল ইউনিয়ন। ১৮ নম্বর নতুন ওয়ার্ড সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্তির সময় এই ইউনিয়নটিও ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়। ওয়ার্ড হিসেবে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলেও এখানে রয়েছে অনেক নাগরিক সেবার ঘাটতি। বিশেষ করে এখনো এই এলাকায় অটোরিকশা হলো যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। অন্য বড়ো যানবাহন চলার মতো তেমন কোনো সড়ক নেই। যাতায়াত সমস্যা ছাড়াও এখানে রয়েছে মাদকের সমস্যা। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলো হলো—পূর্ব পদরদীয়া, পশ্চিম পদরদীয়া, তালতলা, দক্ষিণ পাড়া, পুকুর পাড়া, উত্তর পাড়ার দুই অংশ, সাতারকূল, মেরুর ও পাঁচকলা। এই এলাকার বাসিন্দারা জানান, এবার তারা এমন একজন প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন যিনি সকল ধরনের নাগরিক সেবার ব্যবস্থা করবেন। সাবেক ব্যাংকার মুসা আহমেদ বলেন, এই এলাকার জন্য যিনি পূর্বে কাজ করেছেন, সামনে কাজ করবেন আমরা তার সঙ্গেই আছি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এলাকায় বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী পোস্টার টানানো হয়েছে। জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এবার এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে বর্তমান কাউন্সিলর মো. সফিকুল ইসলামকে। তিনি পেয়েছেন ঠেলাগাড়ি প্রতীক। তিনি প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এর আগে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতিনকে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সেটি পরিবর্তন করে বর্তমান কাউন্সিলরকে সমর্থন দেওয়া হয়। সমর্থন পরিবর্তন হলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মতিন। তিনি ইতিমধ্যে লাটিম প্রতীক নিয়ে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সফিকুল ইসলাম বলেন, দল থেকে সমর্থন না পাওয়ার পরও তিনি বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের ভোট নষ্ট করছেন। ভোটাররা এখন কাকে বেছে নিবেন এ নিয়ে তারা একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন। তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার কথা বলার পরও তিনি সেটি করেননি। এ বিষয়ে আব্দুল মতিন বলেন, আমি নির্বাচনের মাঠে আছি। এলাকার জনগণ আমার সঙ্গে আছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সফিকুল ইসলাম বলেন, আমি পূর্বে নির্বাচিত হয়ে এই এলাকায় দীর্ঘ সড়ক সংস্কারের কাজ করেছি। গ্যাসের সমস্যার সমাধান করেছি। জনগণ যদি আমাকে আবার নির্বাচিত করেন, তাহলে এই ওয়ার্ড নিয়ে আমার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। একটি পরিকল্পিত ওয়ার্ড গড়ার জন্য আমি কাজ করব। বিশেষ করে সূতিভলা খালটি খননের মাধ্যমে হাতিরঝিলের ন্যায় সুন্দর কিছুর ব্যবস্থা করব। আর যাতায়াত ব্যবস্থা আরো উন্নত করার জন্য কাজ করব।

এই ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে নবী হোসেনকে। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে। তিনি বলেন, আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে মেহনতি মানুষের জন্য কাজ করব। আমি আগে থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে ছিলাম। নির্বাচিত হতে পারলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করব। অন্যদিকে এই ওয়ার্ডে আরেক প্রার্থী হলেন রফিকুল ইসলাম। যিনি ব্যাডমিন্টন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।