ইরানের বিক্ষোভে ট্রাম্পের সমর্থন

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২৪

ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করায় ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে তেহরানে। বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি আলী খামেনির পদত্যাগ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে। তেহরানের কমপক্ষে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর বিক্ষোভে উসকানির অভিযোগে তেহরানে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে ইরান। খবর:বিবিসি ও আলজাজিরার।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার বদলা নিতে গত বুধবার ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পিএস৭৫২ তেহরানে বিধ্বস্ত হন। বিমানের ১৭৬ আরোহীর সবাই নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ইরানের ৮২, কানাডার ৫৭, ইউক্রেনের ১১, সুইডেনের ১০, আফগানিস্তানের চার এবং যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন জন করে নাগরিক ছিলেন।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে ইরান এটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করে। পরে শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনী বিমানটি ভূপাতিত করার দায় স্বীকার করে। এক টুইট বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য ভুল।    ইরানের দায় স্বীকারের পর শনিবার রাতে তেহরানে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে কয়েক শ মানুষ। শিক্ষার্থীরা শরীফ ও আমির কবির নামে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে প্রথমে নিহতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যার পর তা বিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ১ হাজারের বেশি মানুষ দেশটির নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে এবং সোলেইমানির ছবি ছিড়েছে। তারা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এক পর্যায়ে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাও সরকারের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে সোলেইমানি নিহত হওয়ার পরে তার সমর্থনে গোটা ইরান জুড়ে যে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, সে তুলনায় এই বিক্ষোভ অনেক ক্ষুদ্র ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তার মাধ্যমে তেহরানে অনুপ্রেরণামূলক বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্প ইংরেজি এবং ফারসি দুই ভাষায় টুইট করে বলেন, ইরানের সাহসী ও ভুক্তভোগী জনগণ; আমি আমার রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকেই আপনাদের পাশে আছি এবং আমার সরকার আপনাদের পাশে থাকবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানে বিক্ষোভের ভিডিও টুইট করে বলেন, ইরানি জনগণের বক্তব্য স্পষ্ট। তারা খামেনির দুর্নীতিবাজ শাসনব্যবস্থা, বিপ্লবী বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বর্বরতা, সরকারের মিথ্যাচার, দুর্নীতি ও অদক্ষতায় বিরক্ত। আমরা ইরানি জনগণের পাশে আছি, যারা আরো ভালো ভবিষ্যতের প্রাপ্য।

এদিকে বিক্ষোভে উসকানির অভিযোগে তেহরানে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত রবার্ট ম্যাকাইরকে আটক করে ইরান। বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের জন্য এক প্রার্থনায় যোগ দেওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। গার্ডিয়ানের এক খবরে বলা হয়েছে, তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে। রাষ্ট্রদূত রবার্ট উসকানি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই আটকের ঘটনা ‘আন্তর্জাতিক আইনের চূড়ান্ত লঙ্ঘন’। ইরান ক্রান্তিকাল পার করছে। ইরান চাইলে ‘পারিয়া’ স্ট্যাটাসের দিকে যাত্রা চালিয়ে যেতে পারে অথবা উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক পথে এগিয়ে আসতে পারে।

এদিকে বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদোমির জেলেনস্কি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গে কথা বলেছেন। ট্রুডো বলেছেন, যতক্ষণ না আমরা জবাবদিহি, ন্যায়বিচার পাচ্ছি, ততক্ষণ পর্যন্ত কানাডা বিশ্রাম নেবে না। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, এই বিমান বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সমালোচনা করে বলেছেন, ইরান সারা বিশ্বের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

অন্যদিকে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা জানিয়েছে, ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ইরান ও ইউক্রেনের সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে। এজন্য দুই দেশকে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে হবে।