আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, আসন্ন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থীদের মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের দুই মেয়র প্রার্থীই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে আমাদের মিনিস্টার-এমপির প্রয়োজন হবে না। গতকাল রবিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেনি। তাহলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কী উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান?
ওবায়দুল কাদের বলেন, সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু নির্দেশনা ছিল। সেই নির্দেশনাগুলো বৈঠকে নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে এ পর্যন্ত ৪৫ লাখ শীতবস্ত্র এবং ৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে দলের একটি টিম চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ দলের মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থীর সমন্বয়ক হওয়া সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দল নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন করতেই পারে। তারা তো প্রচার-প্রচারণার জন্য বাইরে যাচ্ছেন না। আমাদের কোনো মন্ত্রী-এমপি আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন না। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যখন থেকে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টা এসেছে আমি একবারও কি কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করার মতো কাজ করেছি? কোনো সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছি? তাহলে মির্জা ফখরুল সাহেব কেন অবান্তর প্রশ্নটি করতে গেলেন? আমি শুধু তাকে বলব, আপনার চ্যালেঞ্জ করা লাগবে না। আপনি নিজে এমপি হয়ে পদত্যাগ করে একটি নাটক করেছেন। সেই নাটকে আবার আরেকজন অংশ নিয়েছে’।
মুজিববর্ষ পালন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, মুজিববর্ষ পালন করে মানুষের মন জয় করা যাবে না, তাহলে কি ভুয়া জন্মদিনে কেক কেটে মানুষের মন জয় করা যাবে? সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মেলনের আগে সারাদেশে ২৯টি জেলা কমিটির সম্মেলন হয়েছে। বাকি জেলাগুলো আগামী ৬ মার্চের মধ্যে সমাপ্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি আগামী ১৮ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়া যাবে। সেখানে একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, মির্জা আজম, শফিকুল আলম নাদেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
