৪৩ হাজার পোলিং এজেন্ট রাখাই বিএনপির চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩২

আসন্ন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়ে প্রচার-প্রচারণা শুরু করলেও সামনে বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ ১৪ হাজার ৪৩৪টি ভোটকক্ষে ৪৩ হাজার পোলিং এজেন্ট রাখা। বিগত জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে পোলিং এজেন্ট দিলেও তাদেরকে ভোটকেন্দ্রে রাখা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। দলের পক্ষ থেকে এজেন্টদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও ভোটের দিন কেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি সামান্যই দেখা গেছে। কেন্দ্রে অনিয়ম হলেও তা দেখার মতো বিএনপির কেউ ছিল না।

এ নিয়ে অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এর কারণ হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এজেন্টদেরকে ভোটের আগে গ্রেফতার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোটের দিন কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। হামলা-মামলা ও গ্রেফতার-হয়রানির কারণে সমস্যাটা তৈরি হয়ে আসছে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার পোলিং এজেন্ট নিয়োগে আমরা বেশ গুরুত্ব দিয়েছি। নানা সতর্কতাও অবলম্বন করা হচ্ছে। যারাই পোলিং এজেন্ট হবেন, তাদের অবশ্যই কেন্দ্রে যেতে হবে। দুই সিটিতে আশা করি আসন্ন নির্বাচনে সরকার তাদের মনোভাব পরিবর্তন করবে। অন্যথায় এবার সরকারের পরিণতি ভালো হবে না।

বিএনপি সূত্র জানায়, দুই সিটির নির্বাচন পরিচালনায় ইতিমধ্যে সাতটি কমিটি করে মাঠে নেমেছেন তারা। যদিও বিএনপির দুই সিটি নির্বাচনের সমন্বয়ে থাকা নেতারা বলছেন, ভোটকেন্দ্রে যে কোনো ধরনের কারচুপি ও অনিয়ম ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন—এমন যোগ্যতাসম্পন্ন ও সাহসী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব ধরনের কৌশল বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার দুই সিটিতে প্রায় ৫০ হাজার পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সম্ভাব্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করা হচ্ছে যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হয়রানি করার সুযোগ না পায়। এক্ষেত্রে যাদের বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে তাদেরকে তালিকায় রাখা হচ্ছে না। থাকবে বিকল্প টিমও। পোলিং এজেন্টদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর তাদের নিরাপত্তার জন্য  রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হবে।

ইতিমধ্যে পোলিং এজেন্টের নামের তালিকা সংগ্রহ করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ পেয়ে তারা প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে সম্ভাব্য তালিকা পাঠাতে বলেছেন। এছাড়া যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকেও আলাদা তালিকা দিতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে—স্থানীয় পর্যায়ে সাহসী, জনপ্রিয়, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবশালী বিএনপি সমর্থক এবং দলের ত্যাগী ও বিশ্বস্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের। যারা প্রতিকূল পরিবেশেও কেন্দ্রে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন। ভোট জালিয়াতি, হামলা ও কেন্দ্র দখলসহ যে কোনো পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবেন।

এদিকে দলের নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট একজন নেতা জানান, পুরো ঢাকায় ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট হবে। বিষয়টি টেকনিক্যাল হওয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এজেন্টদেরকে। সম্ভাব্য তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের সবাইকে ইভিএমের টেকনিক্যাল বিষয়সহ ভোট কারচুপি প্রতিরোধ করার বিভিন্ন কলাকৌশল শেখাতে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।