স্পোর্টস ডেস্ক
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ ও স্বাগতিক আল আইন উভয়েই ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে আজ শনিবার আবুধাবিতে ফিফার ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে।
রিয়াল মাদ্রিদ এ ফাইনালে জিতলে তা হবে ক্লাব বিশ্বকাপে রেকর্ড চতুর্থ শিরোপা। বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ২০১৪ ও গত দুটি আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সে কারণে রিয়াল মিডফিল্ডার টনি ক্রুস নিজেকে ও তার সতীর্থদের আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে নতুন ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ নিতে বলেছেন। কারণ আল আইনের বিরুদ্ধে সফল হলে রিয়াল তাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে। বর্তমানে উভয় দলেরই আছে তিনটি করে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা। ক্রুসের বিশ্বাস এ ব্যাপারটিই তাদের শিরোপা জয়ে চাঙ্গা করে রাখবে। জার্মানটি গত বুধবার ক্যাশিমা অ্যান্টলার্সসে সেমিফাইনালে হারানোর পর বলেন, ‘ক্লাব বিশ্বকাপে পৌঁছাই তো কঠিন ব্যাপার। কেননা এ জন্য আপনাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে হয়। সেটাও সহজ নয়।’
তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এটা করতে পারেন, তাহলে আপনার এই শিরোপার জন্যও চেষ্টা করা দরকার। আমরা গেল বছর ও তার আগের বছরেও এটা সম্ভব করেছিলাম। তাই একই মনোভাব নিয়ে আমরা এটা আবারো জিততে এবং ইতিহাস গড়তে এসেছি।’ মিডফিল্ডারটি স্বীকার করেন যে আল আইন ক্লাবের সাথে তারা তেমন একটা পরিচিত নন। তবে ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে তারা বিপক্ষকে সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে ফেলবেন। আল আইন এ আসরে ঠাঁই পেয়েছিল স্বাগতিক হিসেবে। আমিরাতের লিগ জয়ী ক্লাবটি অবশ্য সুযোগটা ভালভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দেশের প্রথম দল হিসেবে ক্লাব বিশ্বকাপে নাম লিখিয়ে ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছে। সঙ্গত কারণেই আল আইন এখানেই থামতে চায় না।
আমিরাতের ক্লাবটি এই আসরে শুরু করে ওশেনিয়া চ্যাম্পিয়ন টিম ওয়েলিংটনকে হারিয়ে। এরপর আফ্রিকার এসপারেন্স ও দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন রিভার প্লেটকে হারিয়েই ইউরোপ সেরা রিয়ালের প্রতিপক্ষ হয় ক্রোয়েশিয় কোচ জোরান ম্যামিচের দলটি। তিন খেলার মধ্যে দুটিতেই তারা জয়ী হয় পেনাল্টি শুটআউট শেষে। রিভার প্লেটের বিরুদ্ধে খেলার আগে আল আইন সমর্থকরা মাঠে বিশাল ব্যানারে লিখেছিল ‘মিশন পসিবল’। ওই খেলাটিতে সমতা ফেরানো ব্রাজিলীয় চাইও পরে জানিয়েছিলেন তারা লড়াই শুরুর আগেই সাজঘরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। আর্জেন্টাইন ক্লাবটিকে সারাক্ষণ তটস্থ করে রাখা এই ব্রাজিলীয় বলেন, ‘মারা না যাওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালাবো।’
আমিরাতের ক্লাবটির জন্য ফাইনালের বিপক্ষ অবশ্য রিভার প্লেটের চাইতেও অনেক শক্তিশালী। দুবারের শিরোপাধারী, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গত তিন আসরের জয়ী মাদ্রিদের দখলে আছে ১৩টি ইউরোপিয়ান কাপ। এর বিপরীতে আল আইনের অর্জন কেবল ১৩টি ঘরোয়া লিগ। অসম এ লড়াইয়ে তাই আল আইনের শক্তি দৃঢ় মনোবল। টাইব্রেকে দলের জয়ের নায়ক গোলরক্ষক খালিদ এসা সে আভাসই রাখেন ফাইনালে ওঠার পর। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা ফাইনালে উঠেছি। কাজেই আমরা নিজেদের সেরা চেষ্টাটাই চালাব। এখন আমরা এটা জয়ের জন্য লড়তে যাচ্ছি। এছাড়া আমাদের আর কোনো লক্ষ্য নেই।’
