চট্টগ্রাম বন্দরে ৫০টি সফটওয়্যার মডিউলের মাধ্যমে সব বিভাগ অটোমেশিনের আওতায় আসছে। কয়েকটি বিভাগে এরই মধ্যে ডিজিটাল অটোমেশন সিস্টেমের আওতায় আংশিক পর্যায়ে এসেছে। বন্দরের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে জাহাজ জেটিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। বিশেষ করে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের আউটারে পৌঁছানোর পর সেটি কখন কোন জেটিতে পৌঁছাবে তা জানার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পরে এসেও তদ্বির কিংবা কোনো নিয়ম না মেনে অজ্ঞাতকারণে আগে জেটিতে পৌঁছাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন অটোমেশন সিস্টেমের আওতায় জাহাজটি বাংলাদেশ জলসীমায় পৌঁছার পর বন্দরের বহির্নোঙ্গরের নির্দিষ্ট লাইন স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরে তার অবস্থান নিশ্চিত হবে। এটি বন্দরের ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ভিসিএমএস) সিস্টেমের মাধ্যমে ধরা পড়বে। ফলে কেউ পরে এসেও আগে আসার দাবি করতে পারবে না। বহির্নোঙ্গরে জাহাজ পৌঁছার পর সাধারণত শিপিং লাইনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিনিয়ত বন্দরের বার্থিং মিটিং হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কোনো বার্থিং মিটিংয়ের প্রয়োজন পড়বে না। জাহাজের আগমনের তারিখের ভিত্তিতে বন্দর বার্থিং প্রোগ্রাম তৈরি করবে। এরপরও কারো কোনো বক্তব্য থাকলে বন্দরের হারবার বিভাগ সংশোধন করে বার্থিং লিস্ট সম্পন্ন করবে। যে কেউ বাইরে থেকে অনলাইনে বার্থিং প্রোগ্রাম দেখতে পারবেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আংশিকভাবে এই ডিজিটাল বার্থিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। নতুন বার্থিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্ভাবনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজকে গত রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা প্রদান করেছে। জানা যায়, গত মার্চ মাস থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা সফটওয়্যার মডিউল তৈরির মাধ্যমে পুরো বন্দরের কর্মকাণ্ডকে ডিজিটালাইজেশন করার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের মার্চ মাসে বন্দরের ডিজিটালাইজেশন কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানা যায়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
ঢাকা আইসিডি এবং পানগাঁও কনটেনার টার্মিনালও অটোমেশনের আওতায় আসবে। চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গোর বার্থিংয়ের জন্যও মডিউল থাকবে।
বন্দর হাসপাতাল পরিচালনা-সংক্রান্ত মডিউল তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্দরের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার জন্য সফটওয়্যার মডিউল থাকছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন ওয়ার্কশপের কর্মকাণ্ডের ডাটা সংবলিত সফটওয়্যার মডিউল থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ ইত্তেফাককে জানান, ইনফরমেশন টেকনোলজির কোনো বিকল্প নেই। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেজন্য বন্দরের পুরো সিস্টেমকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
