রাজপ্রাসাদের বাইরে থাকতে পারবেন ব্রিটেনের প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী প্রিন্সেস মেগান মার্কেল। গতকাল সার্ন্ডিংহাম প্যালেসে এক বৈঠকে এ বিষয়ে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্মতি জানিয়েছেন। বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে রানি এই তথ্য জানান। তবে তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগবে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছেন রানি। এদিকে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে এমন খবর প্রকাশ করায় ব্রিটিশ মিডিয়াকে একহাত নিয়েছেন প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি। খবর সিএনএন ও ডেইলি মেইলের
নর্থ লন্ডনের সার্ন্ডিংহাম প্যালেসে রানিসহ সিনিয়র রয়্যালসদের সংকটকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথসহ প্রিন্স চার্লস, প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি অংশ নেন। আর মেগান কানাডা থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে অংশ নেন। দুই ঘন্টার বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর রানি এলিজাবেথ এক বিবৃতিতে জানান, প্রিন্স হ্যারি-প্রিন্সেস মেগান দম্পতিকে রাজপরিবারের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবেই রাখতে চায় রাজপরিবার। তবে পরিবার তাদের আকাঙ্খার প্রতিও সম্মান জানায়। তাই তারা ‘পিরিয়ড অব টাইম বা ক্রান্তিকাল’ প্রাসাদের বাইরে কাটানোর সুযোগ পাবেন। তারা ব্রিটেন ও কানাডায় স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন।
রানি আরো বলেন, বৈঠকে আমার নাতি ও তার পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তারা তরুণ দম্পতি হওয়ায় তাদের নতুন জীবনের প্রতি রাজপরিবারের পূর্ণ সম্মতি আছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন রানি। তিনি জানান, কিছু জটিল বিষয় আছে যেগুলোর সমাধান করা দরকার। এজন্য সময় প্রয়োজন। বিশেষ করে তারা আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়ার যে আকাঙ্খা প্রকাশ করেছেন সেই বিষয়টি জটিল। কিছুদিনের মধ্যে এটি সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রানি তার ঐতিহাসিক বিবৃতিতে দম্পতির প্রথম নাম হ্যারি ও মেগান বলে উল্লেখ করেছেন। ডিউক এবং ডাচেস অব সাসেক্স বলেননি। কারণ তারা এই উপাধি ত্যাগ করতে চান বলে জানিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে হ্যারি-মেগানের আকস্মিক রাজপরিবার ছাড়ার ঘোষণায় রানি ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মিডিয়াকে একহাত নিলেন দুই ভাই
ব্রিটেনের রাজপরিবারে ভাঙন নিয়ে গোটা দুনিয়ায় যখন হইচই, তখন ঘনিষ্ঠ মহলে আক্ষেপ করেছেন প্রিন্স উইলিয়াম। ভাই হ্যারির সিদ্ধান্তে যে তিনি মর্মাহত, বন্ধুদের সামনে খোলাখুলি তা স্বীকারও করেছেন। ব্রিটিশ মিডিয়া সানডে টাইমস সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি বন্ধুদের কাছে দুঃখ করেন প্রিন্স উইলিয়াম। তিনি বলেন, ‘এতদিন নিজে হাতে ভাইকে আগলে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব নয়। আমরা দু’জন দু’টি ভিন্ন ভিন্ন সত্তা। গোট ঘটনায় আমি মর্মাহত। এই মুহূর্তে ওদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। আশা করি, এমন একটা সময় আসবে, যখন আমরা সবাই ফের এক ছাতার নীচে জড়ো হবো। আমি চাই, প্রত্যেকে একজোট হয়ে কাজ করুক’। বন্ধুদের বরাত দিয়ে মিডিয়া জানিয়েছে, দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি হয়েছে। মিডিয়ায় বলা হয়েছে, স্ত্রী মেগানের প্রতি উইলিয়ামের দুর্ব্যবহারের কারণেই প্রাসাদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন হ্যারি।
গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে উইলিয়াম ও হ্যারি তাদের মধ্যে কোনো ধরনের দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেছেন। ডিউক অব সাসেক্স এবং ডিউক অব ক্যাম্ব্রিজের মুখপাত্র সিএনএনে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাদের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ায় মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। মানসিক এই চাপের মধ্যে দুই ভাইকে নিয়ে এমন রিপোর্ট খুবই ক্ষতিকর বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে এমন প্রতিবেদনের সমালোচনা করা হয়।
গত বুধবার আকস্মিকভাবেই হ্যারি ও মেগান পরিবারের ‘সিনিয়র সদস্যপদ’ ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ‘ডিউক এবং ডাচেস অব সাসেক্স’ উপাধি ধরে রাখতে চাইলেও রাজপরিবারের গ্লির বাইরে বেরিয়ে নিজেদের মতো রোজগার করতে চান বলে ঘোষণা করেন তারা। তাতেই উদগ্রীব হয়ে পড়েন রাজপরিবারের সদস্যরা। রানিকে না জানিয়ে তারা এত বড়ো ঘোষণা করলেন কিভাবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ মাঠে নামতে হলো রানিকে।
